ইয়েমেনে হুতির বিরুদ্ধে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ, তদন্ত শুরু

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে বেসামরিক নাগরিক ও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিষাক্ত পদার্থযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলাবারুদ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিষক্রিয়া ও শ্বাসরোধের উপসর্গ দেখা দেওয়ার খবর পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাইজের বিভিন্ন রণাঙ্গন থেকে বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহারের অভিযোগসংক্রান্ত মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে এসব পদার্থের প্রকৃতি নির্ধারণ, এর প্রভাব নথিভুক্ত করা এবং কারা এগুলো সরবরাহ করেছে, তা শনাক্ত করতে জরুরি তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী জানায়, তাইজে হুতিদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যেই এ অভিযোগ উঠেছে। এসব হামলার মধ্যে রয়েছে স্নাইপার দিয়ে গুলি, আবাসিক এলাকায় নির্বিচার গোলাবর্ষণ এবং সড়ক অবরোধ। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পানি, খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পাওয়ার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিবৃতিতে হুতিদের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং নিষিদ্ধ যুদ্ধপদ্ধতি ব্যবহার থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
সামরিক বাহিনী আরও জানায়, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাইজের অবরোধ ভেঙে দেওয়া রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব। সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
এ ঘটনায় জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হুতিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সড়কগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া এবং নির্বিঘ্নে বেসামরিক নাগরিকদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তি এবং তাদের কমান্ডারদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে তাইজ অন্যতম প্রধান সংঘাতপূর্ণ এলাকা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রদেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি বাহিনী ও হুতি যোদ্ধাদের মধ্যে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লড়াই চলছে। ২০১৫ সাল থেকে তাইজের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান ধরে রেখেছে হুতিরা। প্রধান সড়কগুলোতে বিধিনিষেধের কারণে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাইজসহ ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে হুতি অবস্থান লক্ষ্য করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থনপুষ্ট সরকারি বাহিনী সামরিক অভিযান চালালে সংঘাত আরও তীব্র হয়।
এ উত্তেজনার মধ্যে হুতি ও সৌদি আরবের মধ্যেও নতুন করে শত্রুতা বেড়েছে। উভয় পক্ষই ইয়েমেন ও বৃহত্তর অঞ্চলে হামলা এবং সামরিক অভিযান চালানোর খবর জানিয়েছে।
