logo

বিরোধীদলীয় নেতাকে আটক করল থালাপতি বিজয়ের সরকার

বিরোধীদলীয় নেতাকে আটক করল থালাপতি বিজয়ের সরকার
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপতি (বামে) ও বিরোধীদলীয় নেতা উদয়ানিধি স্টালিন (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

তামিলনাড়ুর বিরোধী দল ডিএমকের নেতা উদয়ানিধি স্টালিনকে আটক করেছে পুলিশ। কাবেরী নদীর পানিবণ্টন নিয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। উদয়ানিধি রাজ্যটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিনের ছেলে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে চেন্নাইয়ের নীলানকারাইয়ে নিজ বাসভবন থেকে পুলিশের একটি বিশেষ দল তাকে আটক করে। পরে তাকে থাঞ্জাভুর থানায় নেওয়া হয়, যেখানে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

গ্রেপ্তার এড়াতে উদয়ানিধি মাদ্রাজ হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন। তবে আবেদন করার পরই তাকে আটক করা হয়। হাইকোর্টের বিচারপতি জি. কে. ইলান্থিরাইয়ানের বেঞ্চ জরুরি শুনানিতে সম্মতি জানিয়ে শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের প্রতি কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেন।

আটকের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে উদয়ানিধি ঘটনাটিকে ‘ভুয়া মামলা’ বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘বিজয় থালাপতির নেতৃত্বাধীন বর্তমান টিভিকে সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ডিএমকে বিধায়কদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করছে। একই সঙ্গে তারা ঘোড়া কেনাবেচার (হর্স-ট্রেডিং) রাজনীতিতেও জড়িত। আমি আইনিভাবেই এর মোকাবিলা করব।’

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার থাঞ্জাভুরে কাবেরী নদীর পানিবণ্টন ইস্যুতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে। বক্তব্য দেওয়ার সময় উপস্থিত জনতার একাংশ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি যোসেপ বিজয়ের (থালাপথি বিজয়) স্ত্রীকে উদ্দেশ করে ‘ত্রিশা, ত্রিশা’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করে।

এ সময় উদয়ানিধি কিছুক্ষণ থেমে বলেন, ‘পানি অন্য কোথাও পৌঁছাক বা না পৌঁছাক, এখানে অবশ্যই পৌঁছানো উচিত।’ পরে তিনি হাসতে হাসতে বলেন যে, তিনি কাবেরী নদীর পানির কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।

এই মন্তব্যের পর তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। ক্ষমতাসীন টিভিকে অভিযোগ করে, দলীয় কর্মীদের অশালীন স্লোগানের জবাবে উদয়ানিধি মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারকে লক্ষ্য করে দ্ব্যর্থবোধক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

টিভিকের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে থাঞ্জাভুর থানায় উদয়ানিধির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং তামিলনাড়ু নারী হয়রানি প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।

এ ছাড়া টিভিকের পক্ষ থেকে জাতীয় নারী কমিশন (এনসিডব্লিউ)-এও একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে উদয়ানিধির বক্তব্যকে ‘অশ্লীল’, ‘যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ’ এবং ‘নারীর বস্তুকরণমূলক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

টিভিকের জাতীয় মুখপাত্র পাজা সেলভাকুমার বলেন, ‘এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য রাজনীতিতে নারীর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে এবং রাজনৈতিক আলোচনার মানকে নিচে নামিয়ে দিয়েছে।’