logo

ব্রিকস সম্মেলন: কূটনীতিক ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জে ভারত

ব্রিকস সম্মেলন: কূটনীতিক ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জে ভারত
নয়াদিল্লির মথুরা রোডে ২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলনের জন্য স্থাপিত ব্যানার। ছবি: এএনআই

বিশ্ব নেতাদের আগমন ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়াকড়ি করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে পুরো এলাকা নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। শীর্ষ সম্মেলনের অতিথিদের স্বাগত জানাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাসিমুখের পোস্টারে ছেয়ে গেছে রাজধানী শহর।

চলতি বছর ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন। ইতোমধ্যে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসতে শুরু করেছেন সদস্য দেশগুলোর নেতারা। যারা দিল্লিতে পৌঁছেছেন তারা কেউই সময় অপচয় করছেন না।

দিল্লি থেকে আলজাজিরার সংবাদদাতা উম ই-কুলসুম শরীফ জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া বিশ্বনেতারা একদমই সময় নষ্ট না করে তারা এই শীর্ষ সম্মেলন ও মোদির সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। তবে এর আড়ালে রয়েছে ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক সংঘাত ও জোটের ভেতরের বিভাজন। এরই মধ্যে জোটটির সদস্যসংখ্যা বেড়ে ১১টিতে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও জানান, নতুন সদস্য হওয়া দেশগুলো অনেক বড় প্রত্যাশা নিয়ে এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ইতোমধ্যে জোটটিতে সম্প্রতি তাদের ওপর হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

তবে বিপরীতে আরেক নতুন সদস্যদেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য স্থগিত করেছে। এর আগে দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন বিষয়ে সব পক্ষের মধ্যে সার্বজনীন ঐকমত্য গড়ে তোলাই ব্রিকসের অন্যতম লক্ষ্য। আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত এই সম্মেলন আয়োজনে ও সম্মেলনকে সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানান উম ই-কুলসুম শরীফ।

তবে এই সম্মেলনে আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে বিশ্বমঞ্জে নিজের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে। কারণ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্র, আর অন্যদিকে ইরান বা রাশিয়ার মতো সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক বিরোধের সঙ্গে নিজেদের কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে নয়াদিল্লির।