logo

হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে তুরস্ক-পাকিস্তান

হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে তুরস্ক-পাকিস্তান
ইয়েমেনের রাজধানী সানার উপকণ্ঠে লেবানন ও ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে হুতি বাহিনীর সমাবেশ। ছবি: আরব নিউজ

সৌদি আররের ভূখণ্ডে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি বাহিনীর আক্রমণ বিস্তৃত হওয়ায় নিরাপত্তার জন্য তড়িঘড়ি করে আলোচনায় বসছে জোটসঙ্গী তুরস্ক ও পাকিস্তান। রিয়াদে নিজেদের সেনাপ্রধানদের পাঠাচ্ছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই দেশে। সম্প্রতি চুক্তি হওয়া মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের আওতায় লক্ষ্য বাস্তবায়নে জরুরি বৈঠকের আহ্বানের পর এই সামরিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগলু সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের ডিফেন্স ফোর্সেস প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও শিগগিরই রিয়াদ পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর এই জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানায় রিয়াদ।

গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের যে কোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। চুক্তির আওতায় তিন দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এরই মধ্যে ইয়েমেনের হুতিদের হামলা বেড়ে যাওয়ায় সৌদি আরবকে কীভাবে সামরিক সহায়তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে তিন দেশের সামরিক প্রধানদের জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

গতকাল নিউইয়র্কে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তবে বৈঠকটি কবে হবে বা কী ধরনের সহায়তা নিয়ে আলোচনা হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।

সৌদি আরবের ওপর হুতিদের হামলার পর পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এরই মধ্যে বলেছেন, চুক্তির আওতায় সৌদির প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা দিতে তুরস্ক প্রস্তুত। অন্যদিকে পাকিস্তানও প্রয়োজন হলে চুক্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

হুতিদের জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ আল বুখাইতি অবশ্য পাকিস্তান ও তুরস্ককে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে গিয়ে দুই দেশ যুদ্ধে জড়ালে তাদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এদিকে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোকে আরও কার্যকর করতে পাকিস্তানের সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে প্রথম মহাসচিব নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি রিয়াদে গঠিতব্য জেনারেল সেক্রেটারিয়েটের নেতৃত্ব দেবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁর নিয়োগের ঘোষণা দেয়।

চুক্তির বাইরে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে ইউরোপের কয়েকটি দেশও। যুক্তরাজ্য সৌদি প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে সহায়তার জন্য রয়্যাল এয়ার ফোর্সের একটি ভয়েজার আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান দেওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্স ইয়ানবুর গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনাল সুরক্ষায় সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ আল ফাওজানও হুতিদের হামলা মোকাবিলায় সীমান্তে অবস্থানরত সৌদি সেনা ও জোটের সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দেশের সীমান্ত রক্ষা ও আগ্রাসন প্রতিহত করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গের প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯ সেপ্টেম্বর রিয়াদমুখী একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। হুতিরা একই সময়ে ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার দাবি করে। এসব হামলার মধ্যে সৌদি আরবের ওপর সামরিক চাপ বাড়ছে এবং মক্কা চুক্তির আওতায় তুরস্ক ও পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।