ইউরোপের মহাকাশ সক্ষমতা বাড়াতে প্যারিসে মহাকাশ সম্মেলন

ইউরোপের মহাকাশ সক্ষমতা বাড়াতে প্যারিসে শুরু হয়েছে দুই দিনের আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া এ সম্মেলনে প্রায় ১২০টি দেশের প্রতিনিধি, বিজ্ঞানী, মহাকাশ শিল্পের কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নিচ্ছেন।
সম্মেলনে ইউরোপের মহাকাশে কৌশলগত স্বনির্ভরতা, রকেট উৎক্ষেপণ, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউরোপকে মহাকাশে আরও স্বাধীন ও প্রতিযোগিতামূলক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সম্মেলনের প্রথম দিনেই ইউরোপের আরিয়ান ৬ রকেট নিয়ে বড় বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছে। অ্যামাজন লিও আরও ছয়টি উৎক্ষেপণের জন্য চুক্তি করায় ২০৩১ সাল পর্যন্ত আরিয়ান ৬-এর সঙ্গে অ্যামজনের মোট উৎক্ষেপণ চুক্তি দাঁড়িয়েছে ২৪টিতে।
আরিয়ান ৬-এর মাধ্যমে ইউরোপ নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ফ্রান্স নতুন প্রজন্মের ছোট রকেট ও বেসরকারি মহাকাশ কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।
মহাকাশকে এখন জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবেও দেখছে ফ্রান্স। স্যাটেলাইট যোগাযোগ, নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মহাকাশে সামরিক অবকাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনে মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ফরাসি-মার্কিন কোম্পানি লফ্ট অরবিটাল-এর নেতৃত্বে এআই-সক্ষম স্যাটেলাইট প্রকল্পে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
তবে ইউরোপের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসএক্স ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। স্পেসএক্স-এর পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি ও কম খরচের উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ইউরোপীয় মহাকাশ শিল্পের ওপর চাপ তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎক্ষেপণ ব্যয় কমানো, আরিয়ান ৬-এর উৎক্ষেপণ সংখ্যা বাড়ানো এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
ফ্রান্সের লক্ষ্য শুধু নিজস্ব মহাকাশ সক্ষমতা বাড়ানো নয়, ইউরোপের দেশগুলোর প্রযুক্তি ও বিনিয়োগকে একত্র করে একটি শক্তিশালী ইউরোপীয় মহাকাশ শিল্প গড়ে তোলা।
প্যারিস সম্মেলনের আলোচনায় তাই মহাকাশ গবেষণার পাশাপাশি অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও ইউরোপের কৌশলগত স্বাধীনতাও গুরুত্ব পাচ্ছে।