পাকিস্তানে ১৮ মাসে ৪ হাজার শিশুর এইডস শনাক্ত

পাকিস্তানে শিশুদের মধ্যে এইচআইভি বা এইডস সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশটিতে ৩ হাজার ৯০০ শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৮০টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে সিন্ধু ও পাঞ্জাব প্রদেশে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশটির পার্লামেন্টে জমা দেওয়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক লিখিত জবাবের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।
এদিন সংসদ সদস্য শর্মিলা ফারুকী ও নুঝাত সাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রদেশভিত্তিক এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, সিন্ধুতে ১ হাজার ৯১৫ জন ও পাঞ্জাবে ১ হাজার ৭৬৫ জন শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ১৩৯, বেলুচিস্তানে ৪৬, ইসলামাবাদে ৩০, আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে ৪ এবং গিলগিট-বালতিস্তানে ১ শিশুর সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে আনুমানিক ৪ লাখ ১৭ হাজার ২১৪ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯২ হাজার ১৪৮ জন নিবন্ধিত। অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬৭ হাজার ৮৭৮ জন।
দেশটিতে এইচআইভি চিকিৎসার জন্য জাতীয় পর্যায়ে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে ১১৩ হয়েছে। চলতি বছর শুধু সিন্ধু প্রদেশেই নতুন করে ১৫টি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া এইচআইভি পরীক্ষা করানোর হারও বেড়েছে। ২০২০ সালে ৩৭ হাজার ৯৪৪ জনের পরীক্ষা করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ১২৬ জনে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউএনএইডসের তথ্য উদ্ধৃত করে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে বছরে নতুন এইচআইভি সংক্রমণের আনুমানিক সংখ্যা ২০১০ সালের ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ৪৮ হাজারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এই সময়ে নতুন সংক্রমণ বেড়েছে প্রায় ২০০ শতাংশ।
ডব্লিউএইচও’র হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানে বর্তমানে আনুমানিক ৪ লাখ ১৭ হাজারের বেশি মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। তাদের একটি বড় অংশই শিশু। তারা সাধারণ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়ে এই রোগের আক্রান্ত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান সরকার প্রচলিত সিরিঞ্জ ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপসহ পুনঃব্যবহার-অযোগ্য সিরিঞ্জ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ সিসি পর্যন্ত প্রচলিত সিরিঞ্জের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।


