logo

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন/সংখ্যালঘু দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করছে ভারত

সংখ্যালঘু দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করছে ভারত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: পিটিআই

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দমন করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ভারত সরকার ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। তবে ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত শিখ অধিকারকর্মী জগতার সিং জোহালকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্তকে জানিয়ে মার্কিন সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি ভারতে ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতার কারণে কারাবন্দি অন্যদেরও মুক্তি নিশ্চিত করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে।

ইউএসসিআইআরএফ জানিয়েছে, ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতার কারণে কারাবন্দি অনেকেই কমিশনের ‘ফ্রাঙ্ক আর. উলফ ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন অর বিলিফ ভিক্টিমস লিস্ট’ বা ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন। জগতার সিং জোহালও ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘প্রায় নয় বছর ধরে বেআইনিভাবে এবং বিচারবহির্ভূত আটক রাখার পর জগতার সিং জোহালকে জামিন দেওয়ার জন্য নয়াদিল্লির হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানাই। তবে তার যুক্তরাজ্যে প্রত্যাবর্তন ও পরিবারের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হওয়ার অনিশ্চিয়তা এখনও রয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জামিনের শর্ত অনুযায়ী জোহালকে তার পাসপোর্ট জমা দিতে হয়েছে এবং গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া বা যোগাযোগের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের কারণে এখনো মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে।’

২০১৭ সালে ভারত সরকার ‘আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট’ (ইউএপিএ)-এর আওতায় হত্যা ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে জোহালকে গ্রেপ্তার করে। প্রতিবেদনে েএসব অভিযোগকে মিথ্যা ও গ্রেপ্তারকে অন্যায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের কয়েকজন স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার এই আইনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও ভারতের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গ্রেপ্তারের আগে জগতার সিং জোহাল ভারতের শিখ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করতেন। ইউএসসিআইআরএফের মতে, এসব লেখা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা–সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইনের সুরক্ষার আওতায় পড়ে।

আটক থাকা অবস্থায় জোহালের বিচারপ্রক্রিয়া পদ্ধতিগতভাবে বারবার বিলম্বিত করা হয়েছে। ইউএসসিআইআরএফের দাবি, ভারত কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হাজির করতেও ব্যর্থ হয়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘ তার কারাবাসকে বিচারবহির্ভূত আটক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে জোরপূর্বক আটককে মানসিক নির্যাতনের শামিল হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।

জগতার সিং জোহালের অভিযোগ করেছেন, কর্তৃপক্ষ তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, নির্ঘুম রাত কাটাতে বাধ্য করা, কষ্টকর ভঙ্গিতে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকির মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতন করেছে। এর ফলে তাকে জোর করে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়।

ইউএসসিআইআরএফ মার্কিন সরকারকে জোহালের আটক ও নির্যাতনের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য ভারতীয় কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী এ ধরনের গুরুতর লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনারও আহ্বান জানিয়েছে।

ইউএসসিআইআরএফের ভাইস চেয়ারম্যান সিসি হেইল বলেন, ‘জোহালের মামলাটি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কণ্ঠরোধ বা কারারুদ্ধ করার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের একটি বৃহত্তর প্রবণতারই পরিচায়ক। উমর খালিদ ও শারজিল ইমামসহ এফওআরবির আরও বেশ কয়েকজন বন্দি শুধু শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার জন্য কথিত ইউএপিএ লঙ্ঘনের অভিযোগে বিচারাধীন অবস্থায় আটক রয়েছেন।’

সিসি হেইল আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত সরকার প্রবাসী শিখ সম্প্রদায়কে ভয় দেখানো, জবরদস্তি করা ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের স্পষ্ট কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকায় শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে গুপ্তহত্যা ও গুপ্তহত্যার চেষ্টার ঘটনাও রয়েছে।