logo

সৌদি আরবে হামলা মানে পাকিস্তানে হামলা: পাকিস্তানের ধর্মমন্ত্রী

আরব নিউজ
আরব নিউজ
সৌদি আরবে হামলা মানে পাকিস্তানে হামলা: পাকিস্তানের ধর্মমন্ত্রী
পাকিস্তানের ধর্মমন্ত্রী সরদার মুহাম্মদ ইউসুফ। ছবি: আরব নিউজ

ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো ও ওমরাহযাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কয়েকজনের প্রাণহানিও ঘটেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী সরদার মুহাম্মদ ইউসুফ। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবে হামলা মানে পাকিস্তানে হামলা। সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে নিজেদের নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখে পাকিস্তান।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ইসলামাবাদের ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর আরব নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সরদার মুহাম্মদ ইউসুফ। সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানাতে পাকিস্তানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দলের নেতা ও সংসদ সদস্যরা ওই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধাদের সৌদি আরবের বেসামরিক স্থাপনা ও তেল অবকাঠামোয় একাধিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পাকিস্তানের ধর্মমন্ত্রী। এর আগে গত রোববার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হন বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

আরব নিউজকে ইউসুফ বলেন, পাকিস্তান সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা থেকে আলাদা করে দেখে না ইসলামাবাদ।

মন্ত্রী বলেন, ‘যে-ই সৌদি আরবে হামলা চালাক, আমরা সেটিকে পাকিস্তানের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করি। মুসলমানদের শক্তি দুর্বল করার উদ্দেশ্যে হারামাইন শরিফাইন (দুই পবিত্র মসজিদ) এবং হিজাজে মুকাদ্দাস (মক্কা ও মদিনা) লক্ষ্য করে হামলা কোনো মুসলমানই সহ্য করতে পারেন না।’

পাকিস্তান সৌদি আরবকে সহায়তা করতে বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান ইউসুফ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির লক্ষ্য হলো সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ইউসুফ বলেন, ‘পাকিস্তান বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমেও সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন প্রমাণ করেছে। এ জন্য তারা সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ইনশা আল্লাহ, ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।’

গত বছর পাকিস্তান ও সৌদি আরব দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। আর চলতি বছরের ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। এসব প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে যাওয়া যাত্রীদের লক্ষ্য করে হুতিদের হামলারও নিন্দা জানান পাকিস্তানের ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব যাত্রী কারও জন্য কোনো হুমকি ছিলেন না। ইউসুফ বলেন, ‘ওমরাহযাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেখুন, মুসলমান হিসেবে এটি আমাদের বিশ্বাসের অংশ। যারা ওমরাহ বা হজ পালন করতে যান, তারা নিজেদের পাপের ক্ষমা চাইতে যান। তারা কারও সঙ্গে লড়াই করতে বা কাউকে আক্রমণ করতে যান না।’

ইউসুফ বলেন, সৌদি আরবের বিষয়ে পাকিস্তানের সরকারের অবস্থানের প্রতি দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ধর্মীয় দল এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে সমর্থন জানাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সময় এলে সারা বিশ্বের মুসলমান এবং বিশেষ করে পাকিস্তানের জনগণ সৌদি আরবের পবিত্রতা রক্ষায় জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।’

তিনি আরও বলেন, ‘সৌদি আরবের সরকার ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং শান্তি নিশ্চিত করতে নেয়া সব পদক্ষেপকে আমরা পূর্ণ সমর্থন জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের ধর্মীয় নেতারা ও সংসদ সদস্যরাও হামলার নিন্দা জানান। সৌদি আরব এবং ইসলামের পবিত্র স্থানগুলো রক্ষায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে আরও ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।

পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম দলের মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মাওলানা আবদুল গফুর হায়দারি বলেন, সৌদি আরবের প্রতি সমর্থনের প্রশ্নে পাকিস্তানের সরকার ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ। হায়দারি বলেন, ‘সৌদি আরবের বিষয়ে সরকার ও জনগণ একই অবস্থানে রয়েছে। আমি এটিকে খুবই ইতিবাচক লক্ষণ বলে মনে করি। সৌদি আরব কেবল একটি দেশ নয়; এটি মুসলমানদের ধর্মীয় অনুরাগ ও ভক্তির কেন্দ্র।’