৮ যুদ্ধ থামিয়েছি, তবুও নোবেল পেলাম না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে আবারও নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার দাবি জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বার অভিষেক হওয়ার পর আটটি যুদ্ধ থামানোর দাবি করেছেন তিনি। তার মতে, বিশ্বে চলমান প্রাণঘাতী সংঘাত বন্ধের মতো ‘মহান কাজের’ স্বীকৃতি হিসেবে এ পর্যন্ত তার চার থেকে পাঁচটি নোবেল পুরস্কার উচিত ছিল।
শনিবার (২৩ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আটটি যুদ্ধের নিষ্পতি করেছি, আমি কি নোবেল পুরস্কার পেয়েছি? না।’ এ সময় তিনি আবারও ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব দাবি করেন যে, দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীকে চড়া শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করেছিলেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ভারত ও পাকিস্তান দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশকে থামিছি। আমি বলেছিলাম, বন্ধুরা, তোমরা যদি এমনটা করো, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারবে না। আমি তোমাদের দুদেশের ওপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব, যাতে তোমরা কোনো ব্যবসাই করতে না পারো। আমি এসব যুদ্ধ থামিয়েছি। এটা করতে পারা সত্যিই সম্মানের। এ প্রচেষ্টায় জাতিসংঘের কাছ থেকে কোনো সহায়তা নেইনি।
আটটি যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি জাতিসংঘে একবারও ফোন করিনি। কিন্তু আমরা সব যুদ্ধ থামিয়েছি, আর কয়েকটি বাকি আছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় আমার ধারণাই ছিল না, এতগুলো যুদ্ধ চলছে। আমি আটটি যুদ্ধের নিষ্পত্তি করেছি। আমি কি নোবেল পুরস্কার পেয়েছি? না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ভারত-পাকিস্তান, ইসরায়েল-ইরান, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড, সার্বিয়া-কসোভো, রুয়ান্ডা-ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, মিশর-ইথিওপিয়া এবং আর্মেনিয়া-আজারবাইজানসহ একাধিক সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে একাধিক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সংঘাত থামানোর ক্ষেত্রে মার্কিন ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য জানিয়েছে। ভারতও অতীতে স্পষ্ট করেছে যে, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত থামানোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের কোনো ভূমিকা ছিল না।
এর আগেও নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ২০২৫ সালে ট্রাম্প বলেছিলেন, তার কাজের জন্য ইতোমধ্যেই চার বা পাঁচবার এই পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ২০০৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টিও টেনে আনেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, ওবামা পুরস্কার পেলেও তার নিজের কূটনৈতিক সাফল্যের তুলনায় ট্রাম্পের প্রাপ্যতা বেশি।


