মধ্যবর্তী নির্বাচনের কারণে ইরানে পূর্ণমাত্রায় হামলা চালাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘পূর্ণমাত্রায়’ সামরিক হামলা চালাচ্ছে না। তার ধারণা, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়ে যেতে পারে, এমনকি তার আগেও যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে।
বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পুরোদমে’ জড়িয়ে পড়ার আহ্বান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘হয়তো নির্বাচনের কারণে আমি সেটা করছি না।’
ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর আগেও যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, দেশটি ‘খুঁড়িয়ে চলছে’ এবং ‘গভীর সমস্যায়’ রয়েছে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা হয়ে থাকলে দেশটি এখনো কীভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানের কাছে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের কাছে আগে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল এবং সেগুলোর বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে দেশটির হাতে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সবসময়ই থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে কোনো অনুশোচনা আছে কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘অনুশোচনা’ শব্দটিই বিশ্বাস করেন না।
তিনি বলেন, আবারও যদি একই পরিস্থিতিতে পড়তে হতো, তাহলে তিনি ঠিক একই সিদ্ধান্ত নিতেন।
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছে এবং ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারলে তা ব্যবহার করত।
তার ভাষায়, ইরান ‘পাগল’ এবং পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেলে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশ ধ্বংস করে ফেলত, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহরেও হামলা চালাতে পারত।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে আচরণ করতে হতো এবং আলোচনার জন্য তাদের কাছে যেতে হতো।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান
পরে বৃহস্পতিবার টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনসংক্রান্ত সম্মেলন থেকে ফেরার সময় ট্রাম্প ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর একটি প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করেন। ওই প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, ইরানের যুদ্ধ তার বর্তমান মেয়াদের শেষ পর্যন্ত চলতে পারে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি যতগুলো সংবাদপত্র পড়েছেন, তার মধ্যে এটি ‘সবচেয়ে ভুল’ প্রতিবেদনগুলোর একটি। যুদ্ধ এত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ‘কোনো সম্ভাবনাই নেই’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘যুদ্ধে জয়ী’ হলেই তেলের দাম আবার আগের অবস্থানে ফিরে যাবে।
তিনি আবারও বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার আগেও এর অবসান ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
