
রোমাঞ্চকর এক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন মহাকাশপ্রেমীরা। আগামী ১২ আগস্ট আকাশে দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এটি হতে যাচ্ছে ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর বিশ্বের প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। বিরল এই দৃশ্যটি সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
সূর্যগ্রহণটি যখন শুরু হবে তখন বাংলাদেশ, ভারতসহ এশিয়ায় রাত থাকবে। বিধায় বাংলাদেশ দেখে গ্রহণটি দেখা যাবে না। তবে সূর্যের পূর্ণগ্রাস পর্যায় ইউরোপের কিছু এলাকায় দেখা যাবে। চাঁদ সূর্যের সামনে চলে আসায় সূর্যের আলো কিছু সময়ের জন্য পুরোপুরি ঢেকে যাবে। স্পেন, আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। স্পেনের বেশিরভাগ মানুষ এটি দেখার সুযোগ পাবেন।
১৯৯৯ সালের পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে এটিই প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এ ছাড়া পশ্চিম ইউরোপ, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকায় আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। সব মিলিয়ে বিশ্বের প্রায় ৯৮ কোটি মানুষ সূর্যকে আংশিকভাবে ঢেকে যেতে দেখার সুযোগ পাবেন। তবে বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ, অর্থাৎ প্রতি আটজনের মধ্যে প্রায় সাতজন স্বাভাবিক সূর্যই দেখতে পাবেন।
সূর্যগ্রহণ কীভাবে হয়?
সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চলে আসে। তখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর পড়ে এবং পৃথিবীর কিছু এলাকা থেকে সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি ঢেকে যায়। চাঁদের ছায়া সূর্যের পুরো চাকতিকে ঢেকে ফেললে সেটিকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলা হয়।
পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ একটি চমৎকার মহাজাগতিক কাকতালীয় ঘটনা। সূর্যের ব্যাস চাঁদের প্রায় ৪০০ গুণ। আবার সূর্য পৃথিবী থেকে চাঁদের প্রায় ৪০০ গুণ দূরে। ফলে পৃথিবী থেকে আকাশে সূর্য ও চাঁদকে প্রায় একই আকারের দেখায়। এই কারণেই নির্দিষ্ট সময়ে চাঁদ সূর্যের চাকতিকে পুরোপুরি ঢেকে দিতে পারে। আর এ কারণেই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সম্ভব হয়।
কত দিন পরপর সূর্যগ্রহণ হয়?
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্যমতে, প্রতি বছর পৃথিবীতে দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। এই সংখ্যার মধ্যে চার ধরনের সূর্যগ্রহণই অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ আংশিক, বলয়াকার, পূর্ণ এবং সংকর। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ অনেক কম ঘটে। প্রতি এক শতাব্দীতে গড়ে ৬৬ বার বা মোটামুটি প্রতি দেড় বছরে একবার হয়।
সমস্ত সূর্যগ্রহণের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আংশিক, এক-তৃতীয়াংশ বলয়াকার, এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি পূর্ণগ্রাস এবং প্রায় ৫ শতাংশ সংকর প্রকৃতির। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই মহাজাগতিক দৃশ্যগুলো প্রত্যক্ষ করার সুযোগ তৈরি হলেও, পূর্ণগ্রাস রূপটি দেখার সুযোগ অপেক্ষাকৃত কম ও সীমাবদ্ধ ভৌগোলিক অঞ্চলে দেখা যায়।

