ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর অভিযানে ১০০ হুতি যোদ্ধা নিহতের দাবি

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে চলমান সামরিক অভিযানে প্রায় ১০০ হুতি যোদ্ধা নিহত এবং পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর তাইজ মিলিটারি অ্যাক্সিস জানায়, ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ফ্রন্টে সরকারি বাহিনী হামলা চালিয়েছে।
সেনাবাহিনীর দাবি, সোমবার তাইজ শহরের উত্তরে আল-আরবাইন, দক্ষিণে আল-আকরুধ, পশ্চিমে আল-আনিন ও জাবাল হাবাশি এবং আল-কাধা ফ্রন্টের উপকণ্ঠে আল-বিরিন এলাকায় মোট পাঁচটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এসব অভিযানে প্রায় ১০০ হুতি যোদ্ধা নিহত এবং আরও ১৫০ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে সরকারি বাহিনী। একই সময়ে পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করার পাশাপাশি ছয়টি সামরিক যান ও একটি ট্যাংক ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করার কথাও জানানো হয়েছে।
সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, দক্ষিণ তাইজের জাবাল আল-মানজারা, আল-আশরিফ ও ধিবান এলাকা হুতিদের কাছ থেকে পুনর্দখল করেছে সরকারি বাহিনী।
এর একদিন আগে, সোমবার, ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধার, রাজধানী সানা পুনর্দখল এবং হুতিদের নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটানো।
সরকারি বাহিনী সোমবার আরও দাবি করে, তারা লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর মোকা এবং কৌশলগত বাব আল-মান্দেব এলাকা হুতিদের কাছ থেকে পুনর্দখল করেছে।
তবে হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সরকারি বাহিনীর এসব দাবির বিরোধিতা করেছেন। তিনি দাবি করেন, হুতিরা নিজেদের অবস্থান নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
সারি আরও দাবি করেন, হুতি বাহিনী আল-জাওফ ও মারিব প্রদেশ এবং রাস আল-আরা ও আল-সুকিয়া এলাকায় সৌদি বাহিনীর বিরুদ্ধে কয়েক ডজন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ২০০-র বেশি প্রতিপক্ষ যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সৌদি আরব ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তাৎক্ষণিকভাবে এসব দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ইয়েমেনে দীর্ঘ সময় তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি ছিল। তবে জুলাইয়ে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে তীব্র লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।
সেপ্টেম্বরে সংঘাত আরও তীব্র হয়। ওই সময় হুতিরা আল-হুদাইদাহ ও তাইজ প্রদেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে বলে সরকারি পক্ষ দাবি করে। এর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোকা শহর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপও রয়েছে।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুতিরা রাজধানী সানা ও দেশের বেশ কয়েকটি প্রদেশ দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
