ডিভিসি ও কংসাবতী বাঁধের পানি ছাড়ায় পশ্চিমবঙ্গে বন্যার আশঙ্কা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দুই দিনের অতি ভারী বৃষ্টির মধ্যেই ডিভিসি ও কংসাবতী বাঁধ থেকে পানি ছেড়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে রাজ্যটির একাধিক জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত দুদিনের টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে উত্তর থেকে দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধ থেকে ডিভিসির পানি ছাড়ায় দামোদর অববাহিকার নিচু এলাকাগুলোতে প্লাবনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মাইথন থেকে আরও প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়তে চলেছে ডিভিসি। এতে দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া পূর্ব বর্ধমানের দামোদর-পাড়ের মানুষ। এমনকি মুণ্ডেশ্বরী, রূপনারায়ণ পাড়েও নবান্নের তরফে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাঁধের এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট বাঁধ থেকে পানির প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে পানি ছাড়া হয়েছে।
দামোদর উপত্যকা জলাধার নিয়ন্ত্রণ কমিটি (ডিভিআরআরসি) বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধ থেকে পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “ডিভিসি পশ্চিমবঙ্গ সরকার, জেলা প্রশাসন এবং আসানসোলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সতর্ক করেছে এবং নদী তীরবর্তী এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে ও নিম্ন দামোদর অববাহিকায় সম্ভাব্য বন্যার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।’
তিনি আরও বলেন, জলাধার দুটির উৎস অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত এবং তেনুঘাট বাঁধ থেকে অতিরিক্ত জলপ্রবাহের কারণে সেগুলোর ওপর বাড়তে থাকা চাপ সামাল দিতেই পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও পানিপ্রবাহের অবস্থার পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে পানি ছাড়ার পরিমাণ পর্যালোচনা করা হতে পারে বলে আরেকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এদিকে বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুর বাঁধ থেকে ১৫০০০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ১০,০০০ কিউসেক পানি ছাড়া হলোও, আজ পানি ছাড়া পরিমাণ আরো ৫ হাজার কিউসেক বাড়ানো হয়েছে। মুকুটমণিপুর বাঁধের পানি ধারণ ক্ষমতা ৪৩৪ ফুট। গতকালই ৪৩১.৩০ ফুট পানি চলে আসায় পাশাপাশি উচ্চ অববাহিকায় বৃষ্টিপাত সবে মিলে বেশি পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় কংসাবতী কর্তৃপক্ষ। এর ফলে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা পশ্চিম মেদিনীপুরের বিনপুর, দাসপুর, ডাবরা, পাঁশকুড়া সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

