ক্যারিবিয়ান সাগরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌযানে মার্কিন হামলা, নিহত ৪

ক্যারিবিয়ান সাগরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী একটি দ্রুতগতির নৌযানে হামলা চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। শনিবারের এই হামলার মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকায় কথিত মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক অভিযান আরও জোরদার হলো।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় এক বছর আগে যাদের ‘নারকোটেররিস্ট’ বা মাদক-সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করে অভিযান শুরু করে, তাদের বিরুদ্ধে ৬৯টি নৌযান হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায়ও পরিচিত মাদক পাচারের রুটে চলাচলকারী সন্দেহভাজন পাচারকারীদের লক্ষ্য করা হয়েছিল। তবে নৌযানটিতে সত্যিই মাদক বহন করা হচ্ছিল—এমন কোনো প্রমাণ মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রকাশ করেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে চলন্ত একটি নৌযানের মতো দেখতে বস্তুর পরপরই বিস্ফোরণের ঝলক দেখা যায়।
এদিকে, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে স্থলভাগেও অভিযান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত মাসে পানামা সফরের সময় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেন, কলম্বিয়া, গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাস নিজ নিজ ভূখণ্ডে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনার অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে গুয়াতেমালা পরে এমন কোনো চুক্তিতে সম্মত হওয়ার কথা অস্বীকার করে। মার্চে ইকুয়েডর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই ধরনের যৌথ অভিযান শুরু করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লাতিন আমেরিকার মাদক কার্টেলগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ এবং প্রাণঘাতী ওভারডোজ কমাতে এসব হামলা প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছে তার প্রশাসন।
তবে হামলায় নিহত ব্যক্তিরা যে সত্যিই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তা প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি।
