পুলিশের ছোড়া জলকামানে নাচতে নাচতে গোসল করলেন বিক্ষোভকারীরা

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে ‘জেন-জি’ তরুণ-তরুণীদের অভূতপূর্ব গণ-আন্দোলনে উত্তাল ভারতের ঝাড়খণ্ড। রাজ্য সরকারের সঙ্গে ষষ্ঠ দফার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানী রাঁচিতে রাজ্য বিধানসভা ঘেরাও অভিযানের ডাক দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
বিধানসভা চত্বরে পুলিশি বাধা ও ব্যারিকেড ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করলে মিছিল লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ ও জলকামান প্রয়োগ করে পুলিশ। তবে দমন-পীড়নে দমে না গিয়ে শিক্ষার্থীরা উল্টো পুলিশের জলকামান ও পানির তোড়কে প্রতীকী প্রতিবাদের হাতিয়ার বানিয়ে নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক স্থিরচিত্র ও ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের ছোড়া জলকামানকে ভয় না পেয়ে উল্টো সেই পানিতে গোসল করছেন বিক্ষোভকারীরা। এমনকি মাথায় শ্যাম্পু দিয়ে আয়েশ করে গোসল করা এবং জলকামানের পানির নিচেই উল্লাসে নাচ গান করতে দেখা যায় অনেক তরুণকে।

অভিনব প্রতিবাদের অংশ হিসেবে স্পাইডারম্যানের মুখোশ পরে হাজির হওয়া এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘রাজ্য সরকারের কানে আমাদের কথা ঢুকছে না বলেই আমি ঝাড়খণ্ডে এসেছি… আপনাদের সরকার আমাদের কথা শুনতে চায় না, কিছুই করতে চায় না।’
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্যমতে, পুলিশি লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের আঘাতে বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রত্যাশী আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন।
রাজ্যের ২০২৩ ও ২০২৫ সালের ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন (জেপিএসসি) এবং কর্মচারী চয়ন আয়োগের (জেএসএসসি) বিতর্কিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে এই আন্দোলন ১৬তম দিনে পা দিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস ও ট্রেনে চেপে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে সমবেত হন এবং বিধানসভা অভিমুখে বড় মিছিল বের করেন।
সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঁচির অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রধান সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছিল।
টানা আমরণ অনশন ও গণআন্দোলনের মুখে ব্যাকফুটে থাকা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের প্রশাসন ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নেওয়ার কথা বললেও, আন্দোলনকারীরা আন্দোলন থেকে সরেননি।
ছাত্রনেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান ও অনশনরত নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিতর্কিত ১৩টি পরীক্ষা সম্পূর্ণ বাতিল ও পুরো প্রক্রিয়ার ওপর সিবিআই তদন্তের নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সংহতি জানাতে গিয়ে বিজেপির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডিসহ শীর্ষ নেতাদের আটকের মধ্য দিয়ে আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে আরও জোরদার রূপ নিয়েছে।

