logo

দিল্লিতে ব্যারিকেড ও সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

এনডিটিভি
এনডিটিভি
দিল্লিতে ব্যারিকেড ও সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
বিক্ষোভ চলাকালীন ব্যারিকেড দিয়ে রাখে দিল্লি পুলিশ। ছবি: এনডিটিভি

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সিজেপি বিক্ষোভের কারণে দিল্লিতে মেট্রো স্টেশন বন্ধ ও যাতায়াতের ওপর অতিরিক্ত কড়া ব্যবস্থা নিয়ে আনা একাধিক রিট পিটিশনের ওপর একটি বিশেষ শুনানি করেছে। শুনানিতে আদালত ‘জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া’ দিল্লির সব ব্যারিকেড দ্রুত সরিয়ে নেওয়া এবং জনজীবন স্বাভাবিক করার আদেশ দিয়েছে।

একই সময়ে আদালত ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩’-এর ১৬৩ ধারা, যা সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় বড় জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা দেয়, তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনাকুমারের গঠিত একটি বিশেষ বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালত বলেছে, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে সুপ্রিম কোর্ট ও আশপাশে ১৬৩ ধারার অধীনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আমরা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দিচ্ছি অবিলম্বে এই প্রবেশাধিকার নিষেধাজ্ঞা তুলে ফেলতে, যাতে সুপ্রিম কোর্ট বা অন্য কোনো আদালতে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের যাতায়াত এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার ব্যাহত না হয়।’

আদালত আরও জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কিছু প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকলেও সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচলের অধিকার দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে।

এর আগে গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বাগচী ও বিচারপতি মোহনাকুমারের গঠিত বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারকে আদেশ দিয়েছিল, ১০ অক্টোবর দিল্লির মেট্রো ও দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলে ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’ না দিতে। আদালত তখন বলেছিল, বিক্ষোভের অজুহাতে দেশের সবকিছু বন্ধ করা যায় না।

আদালতের সুস্পষ্ট আদেশের পরও শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির অনেক গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। শুনানিতে পিটিশনকারী আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী এই বিষয়কে ‘আদালত অবমাননা’ বলে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বিক্ষোভের মৌলিক অধিকার নিয়ে আদালত বলেন, ‘মানুষের প্রতিবাদ ও গণতান্ত্রিক বিক্ষোভের পূর্ণ অধিকার আছে, এতে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু বিক্ষোভ পুরোপুরি পুলিশ আইনের কাঠামোর মধ্যে হতে হবে।’

বিচারপতি বাগচী পিটিশনকারীকে স্মরণ করিয়ে দেন, প্রতিবাদ করার অধিকার কখনোই পুলিশ আইনের ওপরে থাকতে পারে না।

শুনানি শেষে বেঞ্চ দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এবং দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনকে (ডিএমআরসি) কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে, যাতে রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষকে গণহারে আটক এবং সেই পরিস্থিতি নিয়ে জবাব চাওয়া হয়। একই সঙ্গে, আদালত আদেশ দিয়েছে যে আগামী মঙ্গলবারের (১৩ অক্টোবর) মধ্যে এই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে হবে।

এই বিশেষ শুনানিতে আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার বিষয় উঠে এলে আদালত পুলিশকে আদেশ দেয় যেন আইনজীবীদের কাজের পথে কোনো বিঘ্ন না হয়। একই সঙ্গে আদালত আইনজীবীদের বলেন, কোনো উসকানি না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি ও অবস্থান প্রকাশ করতে হবে।

উল্লেখ্য, ভারতের নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় নানা কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি ও বিরোধী জোটগুলো কয়েকদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।