ভাইয়ের মৃত্যুর ১৫ দিনের মাথায় মারা গেলেন নরওয়ের রাজকুমারী

নরওয়ের রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ডের মৃত্যুর মাত্র ১৫ দিনের মাথায় মারা গেলেন তার বড় বোন রাজকুমারী (প্রিন্সেস) অ্যাস্ট্রিড। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে প্রিন্সেস অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অ্যাস্ট্রিডের ছোট ভাই রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড গত ২৮ আগস্ট ৮৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন আধুনিক ইউরোপের সবচেয়ে বয়স্ক ও দীর্ঘকালীন দায়িত্ব পালনকারী শাসকদের অন্যতম।
গত ৯ সেপ্টেম্বর আয়োজিত ভাইয়ের ভাবগম্ভীর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানেই শেষবারের মতো প্রবীণ এই রাজকুমারীকে জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল।
রাজা হ্যারাল্ডের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ঘোষিত ১৩ দিনের জাতীয় শোক পালন শেষে গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তার রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পূর্বে পুরো দেশজুড়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনে ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়ামসহ বিশ্বের বিভিন্ন রাজপরিবারের সম্মানিত সদস্য ও আন্তর্জাতিক অতিথিরা অংশ নেন।
প্রিন্সেস অ্যাস্ট্রিডের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে রাজা অষ্টম হাকন এক বিবৃতিতে জানান, ‘প্রিন্সেস অ্যাস্ট্রিড তার সুদীর্ঘ জীবনজুড়ে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও গভীর কর্তব্যপরায়ণতার সঙ্গে রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করে গেছেন।’
প্রয়াত রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কবে এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
১৯৩২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে জন্মগ্রহণ করেন রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড। তিনি রাজা ওলাভ পঞ্চম ও সুইডেনের রাজকুমারী মার্থার দ্বিতীয় মেয়ে।
১৯৫৪ সালে তার মা মারা যাওয়ার পর দাদা রাজা হাকন সপ্তমের শাসনামলে অ্যাস্ট্রিড নরওয়ের ‘ফার্স্ট লেডি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বাবা রাজা ওলাভ পঞ্চমের শাসনামলেও তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৬৮ সালে তার ভাইয়ের বিয়ের আগ পর্যন্ত তিনি রাজপরিবারের প্রধান নারী প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬১ সালে অ্যাস্ট্রিড ইয়োহান ফার্নারকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির পাঁচ সন্তান রয়েছে।
