logo

হরমুজে একের পর এক জাহাজে বিস্ফোরণ, ২৫ নাবিক উদ্ধার

আলজাজিরা
আলজাজিরা
হরমুজে একের পর এক জাহাজে বিস্ফোরণ, ২৫ নাবিক উদ্ধার
হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ড। ছবি: জেরুজালেম পোস্ট

ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ ঘোষণার পর সেখানে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রণালির পশ্চিমাংশ দিয়ে ইরানের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলাচলের সময় এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তেহরানের দাবি, মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রণালিতে পুঁতে রাখা মাইনের আঘাতে জাহাজগুলোতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। নতুন করে কোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ওমানের উত্তরাঞ্চলীয় মুসান্দাম গভর্নরেটের উপকূল থেকে ১০৬ নটিক্যাল মাইল (১৯৬ কিলোমিটার) দূরে লক্ষ্যবস্তু হওয়া একটি জাহাজ থেকে ২৫ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। ওমানের নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, পানামার পতাকাবাহী জাহাজটিতে হামলার পর আগুন ধরে যায়। উদ্ধার করা নাবিকদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চলে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার সমুদ্রের মাইনের সংস্পর্শে এসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজ দুটিতে আগুনও ধরে যায়। জাহাজগুলো তাদের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রেখে ‘সীমাবদ্ধ ও বিপজ্জনক এলাকায়’ চলাচল করছিল। এ ছাড়া তারা ‘বিভিন্ন সতর্কবার্তা ও প্রচলিত নিয়মকানুন উপেক্ষা’ করেছিল।

এর আগে আইআরজিসির নৌবাহিনী জানিয়েছিল, দুটি ট্যাঙ্কার ‘দুর্ঘটনাজনিত পরিস্থিতির’ শিকার হয়েছে। রেডিওতে দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমায় জাহাজ দুটিকে থেমে যেতে বাধ্য করা হয়।

আইআরজিসির নৌবাহিনী নতুন করে আরেকটি তেলবাহী জাহাজের বিস্ফোরণের দাবি করেছে। তারা জানায়, প্রায় এক ঘণ্টা আগে হরমুজ প্রণালিতে একটি সুপারট্যাঙ্কার সমুদ্রের মাইন বা তলদেশে পুঁতে রাখা বিস্ফোরকের সংস্পর্শে এলে তাতে আগুন ধরে যায়। তাদের ভাষ্য, ‘অননুমোদিত পথ দিয়ে’ চলাচলের কারণে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তিনটি ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এটি সেগুলোর মধ্যে তৃতীয়টি।

তবে এই ট্যাঙ্কারটি আগে আইআরজিসির নৌবাহিনীর উল্লেখ করা দুটি জাহাজের একটি কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি। ওই দুটি জাহাজ জলপথে কোনো একটি ‘ঘটনার’ সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছিল আইআরজিসি।

অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রধান নৌপথগুলো ইরানের সমুদ্রের মাইনমুক্ত। এসব পথে জাহাজ চলাচলও অবাধ রয়েছে।

সেন্টকমের এক্সে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে কুপার জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় তিনি সেখানে বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দেখেছেন।

এদিকে ইরান বারবার দাবি করে আসছে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এর আগে শুক্রবার আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা দুটি ট্যাঙ্কারকে প্রণালির দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে চলাচলে বাধা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, জাহাজ দুটি মার্কিন সামরিক সহায়তায় ‘অননুমোদিত পথ’ ব্যবহারের চেষ্টা করছিল।