logo

সিঙ্গাপুরের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চিন্তিত ৮২ শতাংশ প্রবাসী

সিঙ্গাপুরের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চিন্তিত ৮২ শতাংশ প্রবাসী
সিঙ্গাপুরের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চিন্তিত প্রবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত

উন্নত জীবনযাত্রা আর আধুনিক সুযোগ-সুবিধার জন্য সিঙ্গাপুর সবসমই প্রবাসীদের পছন্দের শীর্ষে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে প্রবাসীদের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। এতে প্রভাব পড়েছে তাদের কাঙ্খিত সঞ্চয়ে। এমন তথ্য উঠে এসেছে সেন্ট জেমসেস প্লেস এশিয়ার ‘অন দ্য মুভ' শীর্ষক এক জরিপে।

ওই জরিপে দেখা যায়, ৮২% প্রবাসী করব্যবস্থা ও উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চিন্তিত। এছাড়া ৮৫% প্রবাসী মুদ্রা মান পরিবর্তনকে বড় বাধা মনে করেন। এমনকি দেশটির মাত্র ২৭% প্রবাসী নিজেদের আর্থিক বিষয়ে পুরোপুরি সচেতন বলে দাবি করেছেন।

সিঙ্গাপুর প্রবাসীদের জন্য প্রতিনিয়ত আকর্ষনীয় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে। তবে অনেক প্রবাসীই এ বিষয়ে সচেতন নয়। এক গবেষণায় উঠে এসেছে, পেশাদার আর্থিক পরামর্শকের সহায়তা সময়মতো না নেওয়ায় সঞ্চয় ও বিনিয়োগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অনেক প্রবাসী।

এদিকে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ আশে সিঙ্গাপুর থেকে। দেশটিতে প্রায় ২ লাখের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। আর্থিক টানাপোড়েন স্পর্শ করেছে তাদেরকেও। তারপরও সিঙ্গাপুর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন।

নানা সঙ্কটের মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছেন সিঙ্গাপুরের প্রবাসীরা। দেশটিতে বসবাসের মাধ্যমে দ্রুত আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জন সম্ভব বলে মনে করেন ১০ জন প্রবাসীর মধ্যে ৯ জনই।

সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত উচ্চ-আয়ের ৯৩ শতাংশ প্রবাসী মনে করেন বিদেশবসবাস তাদের আর্থিক স্বাধীনতার লক্ষ্যকে দ্রুততর করছে এবং ’’৮৩ শতাংশ’’ আশা করছেন তারা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অবসরে যেতে পারবেন। এছাড়া ’’৫৭ শতাংশ’’ প্রবাসী জানিয়েছেন, নিজ দেশে থাকলে আর্থিক স্বাধীনতা পেতে তাদের আরও অন্তত ৫ বছর বেশি সময় লাগত।

৯৬% প্রবাসী নিজ দেশের চেয়ে সিঙ্গাপুরে বেশি আয় করেন এবং ৯৭% খরচ মিটিয়ে প্রতি মাসে বেশি টাকা সঞ্চয় করতে পারছেন। ৭৮% প্রবাসী অন্তত ৮ বছর সিঙ্গাপুরে থাকার কথা ভাবছেন। আর উচ্চ-আয়ের ৩১% প্রবাসী নিজ দেশে আর কখনোই না ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।