বুধবার থেকে বিশ্বজুড়ে ইরানি বিমান চলাচল বন্ধ: যুক্তরাষ্ট্র

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সংঘাতের পর ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বজুড়ে দেশটির সব বিমান সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। তেহরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ‘কৌশল’ হিসেবে ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তিনি বলেন, বিমান পরিষেবা প্রদানকারীদের ওপর সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার হুমকির কারণে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরানের সব বিমান সংস্থা বন্ধ হয়ে যাবে। এ সময় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযানে চীনা কর্মকর্তারাও ‘খুবই সক্রিয়ভাবে জড়িত’ রয়েছেন বলে দাবি করেন বেসেন্ট।
চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সঙ্গে আলোচনা শেষ করার পর বেসেন্ট সিএনবিসি-কে বলেন, ইরানি বিমান সংস্থাগুলো কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাদের জ্বালানি সরবরাহ করা যাবে না, অবতরণ পরিষেবা দেওয়া যাবে না এবং তাদের কাছে টিকিটও বিক্রি করা যাবে না। তা করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ডলার ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার বিষয়ে ওয়াশিংটন বেইজিংয়ের আর্থিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করছে। এসব আলোচনায় পিপলস ব্যাংক অব চায়নার গভর্নর প্যান গংশেংও রয়েছেন।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইরানের বিমান চলাচল খাতে সহায়তার অভিযোগে দেশটির ২৭টি বিমান সংস্থাসহ মোট ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইরান সরকারকে ‘আর্থিক সহায়তা’ বা ‘অর্থনৈতিক লাইফলাইন’ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘ইরানের যেসব বিমান সংস্থার ওপর আজ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো, সেগুলোর সঙ্গে যারা ব্যবসা করছেন, তাদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা। আপনারা বিশ্ব আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।’
