আমার দেশে ফেরা নিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না, দ্য ওয়ালকে হাসিনা

নিজের দেশে ফেরার কারণে কাউকে বিপদে ফেলতে চান না বলে জানিয়েছেন ভারতে অবস্থান নেওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে নিজের দেশে ফিরতে না পারার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারছেন না।
ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তিনি কী ধরনের ‘অনুকূল পরিস্থিতির’ অপেক্ষায় আছেন। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুকূল পরিস্থিতির কোনো সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।
দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। তিনি নিজে বাংলাদেশেই বেড়ে উঠেছেন এবং স্কুলজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাই নিজের দেশে ফেরার অধিকার কেন থাকবে না—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, তার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে তিনি কাউকে কোনো ধরনের বিপদে ফেলতে চান না। তবে একই সঙ্গে নিজের দেশে ফেরার অধিকার নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার পর তার নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কার কথা জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশে ফিরে গেলে তাকে হত্যা করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা তার রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হলে ঝুঁকি নিতেই হবে। জীবিত থাকলে তিনি মানুষের জন্য কাজ করতে পারবেন। বাবা, মা ও ভাইদের হারানোর পর দেশের মানুষকেই নিজের পরিবার হিসেবে নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন শুধু দলীয় নেতা-কর্মীদের জন্য ছিল না; দেশের সব মানুষের জন্যই উন্নয়ন করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি দেশে ফিরে গ্রেপ্তার বা জেলে গেলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কে দেবেন। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দলের গঠনতন্ত্রে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নিয়ম রয়েছে। কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকলে তার পরবর্তী জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি সেই দায়িত্ব পালন করবেন।
এ সময় সাক্ষাৎকারগ্রহীতা জানতে চান, তিনি কি শেখ সেলিমের কথা বলছেন। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, শেখ সেলিম বর্তমানে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, দলের একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে এবং তাকে আলাদাভাবে ঘোষণা দিয়ে দায়িত্ব দিতে হয় না।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক নিয়ম ও শৃঙ্খলা রয়েছে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো পদধারী ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকলে তার দায়িত্ব পরবর্তী ব্যক্তি পালন করবেন। এ জন্য আলাদা কোনো সিদ্ধান্তের প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, ‘সেক্রেটারি অবর্তমানে জয়েন্ট সেক্রেটারি দায়িত্ব পালন করবেন। তার অবর্তমানে এরপর যিনি থাকবেন, তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।’ দলের গঠনতন্ত্রেই কখন কার অনুপস্থিতিতে কে দায়িত্ব পালন করবেন, তা লেখা আছে বলেও জানান তিনি।
দেশে ফেরার বিষয়ে বিএনপি সরকারের অবস্থান প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বিএনপি সরকার ভারত সরকারের কাছে বারবার আহ্বান জানাচ্ছে। এ নিয়ে তাদের ভয় বা উদ্বেগের কারণ কী, সে প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশ সরকারকেই দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ৬০০টির বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০০টির বেশি হত্যা মামলা বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
