রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এক দিনে প্রাণ গেল ১৭ জনের

টানা চার বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ মিলছে না। প্রতিদিনের হামলা-পাল্টা হামলায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি হুহু করে বাড়ছে বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি।
সমঝোতার কোনো ইঙ্গিত না থাকার মধ্যেই সোমবার (১০ আগস্ট) উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলের শিল্পনগরী নিজনেকামস্কে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত এই শহরটিতে রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার রয়েছে, যা সংঘাতের শুরু থেকেই কিয়েভের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য। ২০২২ সালে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে ইউক্রেনের চালানো অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা এটি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৪৬৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দেয়নি। হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও যুদ্ধ সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই তেল শোধনাগারগুলোতে এই ধারাবাহিক আঘাত হানা হচ্ছে।
এদিকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, একই দিনে ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের চুগুইভ জেলার বুগাইভকা গ্রামে রুশ বাহিনীর ব্যাপক গোলাবর্ষণে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, আবাসিক এলাকায় চালানো এই হামলায় বহু ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চার বছরে পা দেওয়া এই সংঘাত শেষ করার বিষয়ে রাশিয়া কোনো সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না বলেই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে দাবি কিয়েভের।

