প্রেমের সম্পর্কের জেরে ৩ জনকে নগ্ন করে কলকাতার রাস্তায় ঘোরানোর অভিযোগ

খাস কলকাতার বুকে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হলেন এক যুবক, তার বাবা এবং এক বন্ধু।
দক্ষিণ কলকাতার সরশুনা থানার বসুন্ধরা পার্ক এলাকায় ওই যুবকের পরিবারকে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সরশুনা এলাকার এক যুবকের সঙ্গে স্থানীয় এক নাবালিকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রথম থেকেই এই সম্পর্কে তীব্র আপত্তি ছিল মেয়েটির পরিবারের। অভিযোগ, গত ২৫ অক্টোবর (লক্ষ্মীপুজার রাতে) ওই যুগলকে একসঙ্গে দেখতে পেয়ে তাদের ঘিরে ধরে নাবালিকার পরিবার। এর পরই ওই যুবক ও তার এক বন্ধুকে একটি ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়।
পরিস্থিতি জটিল বুঝতে পেরে নিগৃহীত যুবক তার বাবাকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকেন। যুবকের বাবা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি আরও হিংসাত্মক রূপ নেয়। নাবালিকার বাবা, মা, মামা এবং তাদের সহযোগীরা মিলে তিনজনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম নির্যাতন করে।
নিগৃহীতদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা একটি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে যুবকের বাবার হাতে তুলে দেয় এবং তিনটি বিকল্প দেয়— হয় নিজের ছেলেকে গুলি করে মারতে হবে, নয়তো ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে হবে, অথবা তাদের সকলের পরনের পোশাক খুলে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হবে। প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ওই যুবক, তার বাবা এবং এক বন্ধু সমস্ত পোশাক খুলতে বাধ্য হন এবং তাদের বসুন্ধরা পার্ক এলাকার রাস্তায় সম্পূর্ণ নগ্ন করে হাঁটানো হয়।
এই পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ডও করা হয় বলে অভিযোগ। যে ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
এই অমানবিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনার কথা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষিপ্ত স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে নাবালিকার বাড়ির চারপাশ ঘেরাও করেন এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে সরশুনা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে মূল অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলেও জনরোষের হাত থেকে বাঁচতে পারেনি মেয়েটির মামা। তাকে ধরে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা।
কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, এই ঘটনায় মেয়েটির বাবা, মা এবং কাকা—এই তিনজনকে সুনির্দিষ্ট ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটকদের আদালতে তোলার পাশাপাশি এই ঘটনার নেপথ্য অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধারের জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে এবং ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
