যুক্তরাষ্ট্রকে পাত্তা দিল না ওমান, হরমুজে ‘নৌ করিডর’ স্থাপনে রাজি

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মুখে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে ফলপ্রসু আলোচনা করেছে ইরান। ওয়াশিংটনকে পাত্তা না দিয়ে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ‘নৌ করিডর’ স্থাপনের বিষয়ে তেহরান ও মাস্কাট ঐকমত্য হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইরান সফরকালে হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের একটি যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং একটি অস্থায়ী যৌথ সামুদ্রিক করিডোর স্থাপনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ এ নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করেছে।
ওই বিবৃতি অনুসারে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর হামাদ আল-বুসাইদি উভয় দেশের সার্বভৌমত্ব ও সার্বভৌম অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখে সংঘাতপূর্ণ এই প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে ‘গঠনমূলক আলোচনা’য় অংশ নেন।
সাম্প্রতিক সংঘাত ও তার মর্মান্তিক পরিণতির কারণে প্রণালিতে সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতির আলোকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি পর্যায়ক্রমিক ও বাস্তবায়নযোগ্য পর কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রস্তাবিত এই পর্যায়ক্রমিক কাঠামোর মধ্যে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে একটি যৌথ অস্থায়ী নৌ-চলাচল করিডোর স্থাপন এবং প্রণালিটিকে সম্পূর্ণ মাইনমুক্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পরবর্তীতে একটি স্থায়ী নৌ-চলাচল করিডর তৈরি, প্রণালিটির ভবিষ্যত প্রশাসন, তথ্য আদান-প্রদান, সামুদ্রিক যান চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় নৌ-নিরাপত্তা পরিষেবা নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে পারস্য উপসাগরের জলসীমান্তবর্তী অন্যান্য আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে যৌথ আলোচনা আয়োজনের ওপর জোর দিয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা ও উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম অধিকারকে সম্মান জানানোর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েয়ে ওই বৈঠকে।

