২০০ বছর পর বংশে কন্যাসন্তানের জন্ম, রাজকীয় আয়োজনে বরণ

টানা পাঁচ প্রজন্ম ধরে ওই বংশে কোনো কন্যাসন্তানের জন্ম হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার বংশের লক্ষ্মী হয়ে জন্ম নিয়েছে একটি কন্যাসন্তান। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বংশটিতে কন্যাসন্তানের জন্ম হলো। নতুন কন্যাসন্তানের আগমনে আনন্দে ভাসছে পুরো পরিবার।
নবজাতককে বরণ করে নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে রাজকীয় অনুষ্ঠান। ঘটনাটি ভারতের মহারাষ্ট্রের বীড জেলার বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পর নবজাতক গার্গী ও তার মা কল্পনা ঋষিকেশ দহিফালেকে স্বাগত জানাতে বিশেষ শোভাযাত্রার আয়োজন করে পার্লির দহিফালে পরিবার।
বরণের জন্য ফুলে ফুলকড়ে সাজানো হয় একটি রাজকীয় রথ। ঢাক, ঢোল ও করতালের বাজনার তালে তালে পুরো এলাকা ঘুরিয়ে মা ও শিশুকে পরম ভালোবাসায় ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও পরিবারটির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের আনন্দ ভাগ করে নেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কল্পনা দহিফালে এই সৌভাগ্যের অধিকারী হয়েছেন। প্রায় দুই শতক বা ২০০ বছর ধরে দহিফালে পরিবারে কোনো কন্যাসন্তানের জন্ম হয়নি।
আবেগে আপ্লুত হয়ে গার্গীর দাদা লিম্বাজি দহিফালে বলেন, ‘পরিবারে কন্যাসন্তান আসা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। এত দিন আমাদের ঘরে কোনো কন্যা না থাকার যে আক্ষেপ ও কষ্ট ছিল, আজ তা সম্পূর্ণ পূর্ণ হলো।’
অন্যদিকে, শিশুটিকে ‘ঘরের লক্ষ্মী’ আখ্যা দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন গার্গীর দাদি সুরেশা দাহিফালে।
নবজাতক গার্গীর বাবা ঋষিকেশ দহিফালে অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘সাধারণত সমাজে কন্যাসন্তানের চেয়ে পুত্রসন্তানের আকুলতা বেশি দেখা যায়। কিন্তু কন্যাসন্তান পাওয়ার আনন্দ ও অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কন্যাসন্তানরা বাবার প্রতি বেশি অনুরক্ত থাকে। আমরা আমাদের মেয়েকে রাজকন্যার মতো ফুলের সুবাসে ও পরম যত্নে বড় করে তুলব।’

