আবুধাবির শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে চালু হলো প্রবেশমূল্য

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে এখন থেকে দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য দিতে হবে।
শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ সেন্টার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মে সাদা মার্বেলের এই বিশাল স্থাপনায় প্রবেশ করতে বিদেশি পর্যটকদের গুনতে হবে ১০ দিরহাম, আর বৈধ এমিরেটস আইডিধারী আমিরাত প্রবাসীদের গুনতে হবে ৫ দিরহাম। ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে প্রবেশ করলে খরচ পড়বে ৮ দিরহাম।
তবে ষাট বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তি, তিন বছরের কম বয়সী শিশু এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা আগের মতোই বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন। নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে আসা মুসল্লিদের জন্যও মসজিদটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্মুক্ত থাকবে। সরকারি প্রতিনিধিদলের জন্য প্রযোজ্য ফি নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে নির্মিত এই মসজিদটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের স্বপ্নের প্রতিফলন। তিনি এটিকে বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সহনশীলতা, সহাবস্থান ও সংলাপের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। বর্তমানে এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৃহত্তম মসজিদ এবং দেশটির অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
মসজিদ কেন্দ্রটি এখন সাংস্কৃতিক পরিসর আরও বিস্তৃত করতে বাড়তি কিছু মূল্য ধার্য করে প্রদর্শনী বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । লাইট অ্যান্ড পিস মিউজিয়ামে প্রবেশ করতে খরচ হবে ২৫ দিরহাম, আর "দিয়া" নামের ৩৬০ ডিগ্রি ইমার্সিভ উপভোগের জন্য লাগবে ২৫ দিরহাম করে। উভয় ইভেন্ট একসাথে উপভোগ করার সম্মিলিত টিকিটের দাম ৪০ দিরহাম।
মসজিদটি শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। শুক্রবার দুই ভাগে খোলা থাকে, সকাল ৯টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট এবং দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। এ ছাড়া মসজিদের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে বিনামূল্যে কালচারাল ট্যুরের ব্যবস্থাও রয়েছে।
শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই এই মসজিদ পরিদর্শন করেছেন প্রায় ৩১ লাখ ২৭ হাজার দর্শনার্থী। এর মধ্যে ৭৮ শতাংশই ছিলেন বিদেশি পর্যটক। সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী এসেছেন এশিয়া থেকে, প্রায় ৫২ শতাংশ, যেখানে সংখ্যার বিচারে এরপরে রয়েছে চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি।
