যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন দেবেন না জেলেনস্কি

টানা কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দেশে নিজেদের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে যুদ্ধকালীন নির্বাচন আয়োজনের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার ভাষ্য, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। আর নির্বাচনের কোনো পরিবেশ আপাতত বিদ্যমান নেই।
রোববার (২৩ আগস্ট) সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উত্থাপিত ওই প্রস্তাব নাকচ করে জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে নির্বাচন অনুষ্ঠান রাষ্ট্রের জন্য আত্মঘাতী হবে।
কিয়েভের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে এখন নির্বাচন আয়োজন করা হবে ‘রাষ্ট্রের জন্য একটি সুনামি’, যা ইউক্রেনকে সম্পূর্ণ বিভক্ত করে ফেলবে। এ কারণেই আমার প্রধান কৌশল হলো দেশকে যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রকে রক্ষা করা।
গত মাসে বরখাস্ত হওয়া সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইল ফেদোরভের নয় মিনিটের একটি ভিডিও বক্তব্যের জবাবেই জেলেনস্কি প্রথম এই প্রতিক্রিয়া জানান। ওই ভিডিওতে ফেদোরভ রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে দেশে নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে জেলেনস্কিকে সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক আগ্রাসনের প্রথম প্রহরেই ইউক্রেনে জারি হওয়া সামরিক আইনের অধীনে সব ধরণের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এই স্থগিতাদেশটি ইউক্রেনীয় সমাজে ব্যাপকভাবে সমর্থিত।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারাও সতর্ক করেছেন যে, সম্মুখ সমরের কাছাকাছি থাকা সৈন্য কিংবা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া লাখ লাখ ইউক্রেনীয়দের ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় যুদ্ধের মধ্যে বৈধ নির্বাচন আয়োজন অসম্ভব।
কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজি প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৫৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় মনে করেন যে একটি শান্তি চুক্তি এবং যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসানের পরই কেবল দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এদিকে, ফেদোরভকে বরখাস্তের পর সংসদ ইতোমধ্যে ইয়েভহেনি খমারাকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। তবে এই রাজনৈতিক রদবদল ও দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে কিয়েভের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

