logo

হাসিনার আমলের চুক্তি পর্যালোচনায় দিল্লির কড়া বার্তা

এএনআই
এএনআই
হাসিনার আমলের চুক্তি পর্যালোচনায় দিল্লির কড়া বার্তা
ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: পিটিআইর এক্সে দেওয়া ভিডিও থেকে নেওয়া

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলো বাংলাদেশের বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে প্রকাশিত খবরের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যা করার প্রয়োজন, নয়াদিল্লি তার সবই করবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে কথাটি জানান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

সংবাদ সম্মেলনে ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই-এর এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, চুক্তিগুলো পর্যালোচনা সংক্রান্ত গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো নয়াদিল্লির নজরে এসেছে। তবে এ বিষয়ে ঢাকার কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা বা চিঠি তারা পাননি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরাও এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদন দেখেছি, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাছে কিছুই জানানো হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই, ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।’

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে স্বাক্ষরিত অন্তত ১০১টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা পর্যালোচনা করছে বর্তমান প্রশাসন।

বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো নন-বাইন্ডিং বা অ-বাধ্যতামূলক সমঝোতা স্মারক এবং অবকাঠামো সংক্রান্ত শর্তাবলি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না, তা নিশ্চিত করা। তবে কোনো চুক্তিই ঢালাওভাবে বাতিল করা হচ্ছে না; বরং প্রতিটি চুক্তি ও প্রকল্প আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে দেখা হচ্ছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সম্পাদিত এসব চুক্তির আওতায় ভারতের স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিশেষ সুবিধা পেয়েছিল ভারত।

প্রতিবেদনগুলোতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ট্রানজিট ফি ও রুট সংক্রান্ত সুবিধাসমূহ পুনর্মূল্যায়ন করছে। ঢাকার যুক্তি, আগের চুক্তিগুলোর শর্তাবলি বাংলাদেশের অনুকূলে ভারসাম্যপূর্ণ ছিল না। রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা থাকায় এসব সুবিধা পুরোপুরি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও ট্রানজিট ফি ও খরচের কাঠামো পুনর্নির্ধারণের ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় (সেভেন সিস্টার্স) রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যেতে পারে।