logo

দাবি ভারতের নতুন পাঠ্যবইয়ে/‘ধর্মীয় আগ্রাসন’ ঠেকাতে দেবীদের থেকে তরবারি পেয়েছিলেন রাজারা

টাইমস অব ইন্ডিয়া
টাইমস অব ইন্ডিয়া
টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
‘ধর্মীয় আগ্রাসন’ ঠেকাতে দেবীদের থেকে তরবারি পেয়েছিলেন রাজারা
ভারতের একটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছেন শিক্ষিকা। ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

সপ্তম শতাব্দী থেকে শুরু হওয়া ‘ধর্মীয় আগ্রাসন’ প্রতিহত করতে অনেক রাজা ও রাজকুমার কালী, দুর্গা ও ভবানীসহ বিভিন্ন দেবীর কাছ থেকে তরবারি পেয়েছিলেন বলে ভারতের ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (এনসিইআরটি) নবম শ্রেণির নতুন সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড পার্ট ২’ বইয়ের ‘রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ (প্রতিরোধ ও ঘুরে দাঁড়ানো) অধ্যায়ে সপ্তম শতাব্দী থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে হওয়া ধারাবাহিক আক্রমণগুলোর বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

বইটিতে দাবি করা হয়, ‘বিশ্বাস করা হয় যে বস্তারের শাসক আন্নামরাজা মানিক্যদেবীর (দন্তেশ্বরী) কাছ থেকে তার তরবারি পেয়েছিলেন। অন্যদিকে, বিজয়নগরের কুমার কম্পানা মাদুরাইতে সুলতানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সময় দেবীর দেওয়া তরবারি ব্যবহার করেছিলেন। একইভাবে, ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বাস করা হয় যে ছত্রপতি শিবাজীও দেবী তুলজা ভবানীর কাছ থেকে সরাসরি তরবারি লাভ করেছিলেন।’

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধবিগ্রহে দেবীর উপাসনা করার প্রথা ভারতীয় ঐতিহ্যে দীর্ঘদিনের।

বার্তা সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা যায়, এই পাঠ্যপুস্তকটির প্রথম খণ্ড চলতি বছরের জুন মাসে প্রকাশিত হয়েছিল। নতুন প্রকাশিত অংশে শতাব্দী থেকে উপমহাদেশে আরব, তুর্কি, মুঘল ও ইউরোপীয় শক্তির আগমন এবং তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় শাসকদের প্রতিরোধের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ওইসব আক্রমণের পেছনে ভূখণ্ড সম্প্রসারণের পাশাপাশি ধর্মীয় উদ্দেশ্যও কাজ করেছিল। এ ছাড়া বইটিতে দাবি করা হয়, শিখ গরুদের ওপর মুঘল শাসকদের নৃশংসতার সঙ্গে ইতিহাস তুলনয়ি ঘটনা খুব কমই আছে।

পাঠ্যসূচির এই পরিবর্তন ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় ঐতিহাসিক তথ্যের পাশাপাশি পৌরাণিক বিশ্বাসের সংযোজন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে এনসিইআরটির প্রধান দীনেশ সাকলানি বইটির মূল উদ্দেশ্যের পক্ষে সাফাই দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মাধ্যমিক স্তরে সমাজবিজ্ঞান শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা ও বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতার বিকাশ ঘটানো, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বাড়াবে এবং তাদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। এই ভাবধারা থেকেই নতুন এই পাঠ্যপুস্তকের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন করা হয়েছে।’