logo

আত্মহত্যা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজি

এশিয়া পোস্ট নিউজ,কলকাতা
আত্মহত্যা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজি
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (বামে) ও তার ভাতিজি বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় (ডানে)। ছবি: আনন্দবাজার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার স্বজন হারালেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বীরভূম জেলায় নিজ বাসভবন থেকে তার মামাতো ভাইয়ের মেয়ে (ভাজতি) বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Advertisement

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে বীরভূমের রামপুরহাট থানার কুসুম্বা গ্রামে নিজের বাড়ির দোতলার একটি কক্ষ থেকে বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামটি মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামারবাড়ি। তার মামাতো ভাই নীহার মুখোপাধ্যায় রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন, বৃষ্টি তারই মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় কাপড়ের ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সকাল নয়টার দিকে বৃষ্টির মরদেহ ঝুলতে দেখা যায়। ঘটনার খবর পেয়ে রামপুরহাট থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যা।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বেআইনিভাবে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বৃষ্টির বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (সিবিআই/ইডি) তদন্তে প্রকাশ পায় যে, গ্রুপ-সি পরীক্ষার ওএমআর শিটে ব্যাপক কারচুপি ও স্বজনপ্রীতি করা হয়েছিল। দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের চাকরিটি হারান বৃষ্টি।

চাকরি হারানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও সংকটের মুখোমুখি ছিলেন তিনি। সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছিল। পরিবারের এক সদস্য জানান, চাকরি হারানো ও পারিবারিক সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বৃষ্টি এবং তার চিকিৎসাও চলছিল। তিনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন। এই চরম পদক্ষেপ নেওয়ার নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে রামপুরহাট থানার পুলিশ।