logo

ডিআর কঙ্গোয় স্কুলে আগুন, নিহত অন্তত ২৯ শিশু

ডিআর কঙ্গোয় স্কুলে আগুন, নিহত অন্তত ২৯ শিশু
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বুকাভু এলাকায়—যা রুয়ান্ডা-সমর্থিত এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীরা নিয়ন্ত্রণ করছে—একটি স্কুল ও সংলগ্ন বসতিতে অগ্নিকাণ্ডের পর কঙ্গোলিজ সাধারণ মানুষ তাদের জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। ছবি: ভিক্টোরিয়া মুকেঙ্গে/রয়টার্স

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলীয় শহর বুকাভুর একটি স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৯ জন শিশু নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে ও ৫ জন ছেলে রয়েছে বলে জানিয়েছে শহরটি নিয়ন্ত্রণকারী এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বুকাভুর চিমপুন্ডা এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন পাশের উজামা প্রাইমারি স্কুল ও ফুরাহা সেকেন্ডারি স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে স্কুল দুটির পাশাপাশি আশপাশের প্রায় ৩০০টি কাঠের ঘরও পুড়ে যায়।

আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়। স্থানীয় কর্মকর্তা প্যাট্রিস বুদুগে জানান, অনেক শিক্ষার্থী একে অপরের ওপর পড়ে যায় বা আগুন থেকে বের হওয়ার জন্য বিপজ্জনক পথ বেছে নেয়। এতে অনেকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং পদদলিত হয়েও কয়েকজনের মৃত্যু ঘটে।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, আগুনে ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ও কয়েকজন শিক্ষককে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। এএফসি/এম২৩-এর মুখপাত্র লরেন্স কানিউকা জানান, আরও ২৯ জন বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে ২১ জনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

বুকাভুতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ পূর্ব ডিআর কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের লক্ষ্যে গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে অভিযান চালিয়ে আসছে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, জরুরি উদ্ধারকারী দল আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত, সংহত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বুকাভুতে একাধিক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। গত রোববারের একটি আগুনে ৪৫টিরও বেশি বাড়ি পুড়ে যায়।