স্বর্ণের বাজারে মন্দা, কমলো বার ও কয়েন কেনার পূর্বাভাস

সাধারণ ক্রেতাদের কেনাকাটার আগ্রহ কমে যাওয়ায় চলতি বছরের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে বিশ্ব স্বর্ণ পরিষদ (ডব্লিউজিসি)। ব্যক্তিপর্যায়ে স্বর্ণের বার ও কয়েন কেনার প্রবণতা কমে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত ডব্লিউজিসির সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জন্য বৈশ্বিক স্বর্ণ বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের ৪০০ টন থেকে কমিয়ে ২০০ মেট্রিক টন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের বার, কয়েন ও অলংকারের চাহিদা কমে যাওয়ায় এ সংশোধন আনা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বার ও কয়েনের চাহিদা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ কমে ২৬৮ টনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে অলংকার খাতে স্বর্ণের ব্যবহার ১৭ শতাংশ কমে ৩১৩ টনে নেমেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্বর্ণের চড়া দামের কারণে সাধারণ ক্রেতারা কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে প্রতি ট্রয় আউন্স ৫ হাজার ৫৯৫ ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ২৯ শতাংশ কমে এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।
তবে খুচরা পর্যায়ে স্বর্ণের বার, কয়েন ও অলংকারের চাহিদা কমলেও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ডব্লিউজিসির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে গোল্ড এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডগুলোতে (ইটিএফ) ২১১ টন স্বর্ণ যুক্ত হয়েছে।
একই সময়ে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেড়ে ৩২১ টনে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে সুরক্ষা পেতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে। তাদের এই কেনাকাটা বাজারে স্বর্ণের দামের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়া ঠেকাতে ভূমিকা রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ও বিশ্বরাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতি স্বর্ণের বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে ডব্লিউজিসি। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, খুচরা পর্যায়ে কেনাকাটা কমলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ইটিএফের বিনিয়োগ আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদার ভিত্তি ধরে রাখতে সহায়তা করছে।


