logo

নির্বাসন শেষে ভেনেজুয়েলা ফিরলেন নোবেলজয়ী মাচাদো

বিবিসি
বিবিসি
নির্বাসন শেষে ভেনেজুয়েলা ফিরলেন নোবেলজয়ী মাচাদো
রাজধানী কারাকাসে মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে তার সমর্থকরা অভিবাদন জানায়। ছবি: রয়টার্স

দীর্ঘ ১০ মাসেরও বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর নিজ দেশ ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশটির পরিবর্তিত ও উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে তার এই প্রত্যাবর্তন ঘটল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাচাদো লেখেন, ‘আমি এখানে, আপনাদের সঙ্গে।’ এর আগে কয়েক দফা দেশে ফেরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি।

গত জানুয়ারিতে নরওয়েতে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করতে গিয়ে দেশ ছাড়েন মাচাদো। ওই সময় গভীর রাতে স্পিডবোটে করে ভেনেজুয়েলা থেকে পালিয়ে যান তিনি। এর এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করে।

এরপর মাদুরোর ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজকে দেশটির নেতৃত্বে সমর্থন দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। পরে তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন একটি তেল চুক্তিতে সই করেন।

রোববার ভেনেজুয়েলার লারা রাজ্যের একটি গির্জায় প্রার্থনায় অংশ নিতে দেখা যায় মাচাদোকে। এ সময় সমর্থকেরা তাকে ঘিরে ধরেন, আলিঙ্গন করেন এবং হাত ধরে শুভেচ্ছা জানান। পরে সমর্থকদের গাড়িবহর নিয়ে রাজধানী কারাকাসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। পথে বিভিন্ন স্থানে তার সমর্থকেরা জড়ো হয়ে স্বাগত জানান। রোববার রাতে কারাকাসে পৌঁছানোর সময় গাড়ির ছাদ খুলে বাইরে বেরিয়ে সমর্থকদের অভিবাদন জানান মাচাদো।

মাচাদোর মিত্র ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এদমুন্দো গঞ্জালেস তার দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমাদের নেতা মারিয়া কোরিনা ভেনেজুয়েলার মাটিতে ফিরেছেন।

তিনি আরও বলেন, মাচাদোর প্রত্যাবর্তন ভেনেজুয়েলার মানুষের সার্বভৌম কণ্ঠস্বরকে আবার নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। দেশকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিতে শিগগিরই তিনিও মাচাদোর সঙ্গে যোগ দেবেন।

গত সেপ্টেম্বরে মাচাদোর এক উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, এর আগের কয়েক সপ্তাহে সাতবার দেশে ফেরার চেষ্টা করেও অনুমতি পাননি তিনি। তার প্রত্যাবর্তন বিলম্বিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা রেখেছিল বলে খবর প্রকাশিত হলেও তা অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন।

দেশে ফেরার পর মাচাদো কী করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আবারও প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।

২০২৩ সালে মাদুরো সরকারের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের বাইরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদের প্রাথমিক নির্বাচনে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন মাচাদো। তবে জালিয়াতি ও কর ফাঁকির অভিযোগ তুলে তাকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেয় মাদুরো সরকার। অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। পরে আত্মগোপনে থাকার পর নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করতে নরওয়ে চলে যান।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাদুরোর বিরুদ্ধে মাচাদোর পরিবর্তে লড়েন তার মিত্র এদমুন্দো গঞ্জালেস। সরকারঘনিষ্ঠ নির্বাচন কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত ভোটের হিসাব প্রকাশ না করেই মাদুরোকে বিজয়ী ঘোষণা করে। তবে বিরোধীদের দাবি, ভোটের ফল অনুযায়ী গঞ্জালেসই জয়ী হয়েছিলেন। এর পক্ষে ভোটের নথিও প্রকাশ করে তারা।

গত জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে ভেনেজুয়েলা থেকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কের কারাগারে রয়েছেন। মাদক, অস্ত্র ও নির্যাতনসংক্রান্ত অভিযোগে তার বিচার চলছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদুরো।

মাচাদোর মুখপাত্র ডেভিড স্মোলানস্কি তার প্রত্যাবর্তনকে গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও যাচাইযোগ্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের পথে বড় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় সমর্থনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মার্কিন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, মাচাদোর দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে তার নিরাপত্তা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি, তিনি খুব ভালো একজন নারী। তিনি আমাকে তার নোবেল পুরস্কার দিয়েছেন। তাই তার সম্পর্কে নেতিবাচক কিছু বলার উপায় নেই।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, রাজনৈতিক সমঝোতা আলোচনার ফলেই মাচাদোর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়েছে। তার মতে, এসব আলোচনার মাধ্যমে ইতোমধ্যে শত শত রাজনৈতিক বন্দি মুক্তি পেয়েছেন এবং নির্বাসনে থাকা বিরোধী রাজনীতিকদের অনেকে দেশে ফিরেছেন। ভেনেজুয়েলায় শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ নির্বাচন ও স্থায়ী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এই আলোচনাকে গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সুযোগ।