বৈদ্যুতিক বিলবোর্ড হ্যাক করে দেখানো হলো পর্নো

বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার আশঙ্কার মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে মিশর। দেশটির রাজধানী কায়রোর ব্যস্ত সড়কে থাকা একটি বিশাল ইলেকট্রনিক বিলবোর্ড হ্যাক করে তাতে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও প্রচার করেছে হ্যাকাররা। বিলবোর্ডে ভিডিওটি দেখতে অনেক পথচারী ও গাড়িচালক গাড়ি থামিয়ে মুঠোফোনে তা ধারণ করেন।
বৃহস্পতিবারের (২৯ অক্টোবর) এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। মিশরের সরকার ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কায়রোর অন্যতম ব্যস্ত ‘২৬ জুলাই’ সড়কে বিলবোর্ডটি অবস্থিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পর্নোগ্রাফিক ফুটেজের ওপর লেখা রয়েছে, ‘লিক করেছে: Ch, 19ylegal never and nivex’। সেখানে ‘@LeakersGov’ ব্যবহারকারীনামের একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের নামও দেখা যায়।
পরদিন ওই টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে মিশরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি বার্তা প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, মিশর একনায়কতন্ত্রের অধীনে রয়েছে। সরকার দমন-পীড়নের মাধ্যমে ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছে। দেশটি সামনে এগিয়ে যেতে সংগ্রাম করছে। বছরের পর বছর পার হলেও কিছুই বদলায় না এবং মানুষের জীবনের কোনো উন্নতি হয় না।’
২০১৩ সালে মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে মিশর সামরিক বাহিনীর প্রভাবাধীন শাসনব্যবস্থার অধীনে রয়েছে।
মিশরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হ্যাক হওয়া বিলবোর্ডটি একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার। আন্তর্জাতিক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওই সংস্থার চুক্তি ছিল। মন্ত্রণালয়ের দাবি, ‘আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট সাইবার হামলার শিকার হয়েছিল। এর ফলে অননুমোদিত ফুটেজ সম্প্রচারিত হয়।’ একই সময়ে আরও কয়েকটি দেশেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
তবে প্রতিষ্ঠানটির নাম কিংবা অন্য কোন কোন দেশ এ হামলার শিকার হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি মন্ত্রণালয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরাক, মালয়েশিয়া ও ব্রাজিলের ডিজিটাল বিলবোর্ডেও যৌন উত্তেজক ভিডিও দেখা গেছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মিশরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর আগে ডিজিটাল বিলবোর্ডে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও প্রচারের ঘটনায় জড়িত কয়েকজন কিশোরকে শনাক্ত করেছিল মিশরীয় পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবারের ঘটনা নিয়েও নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। অনেকে এতে হতবাক হয়েছেন, আবার কেউ কেউ ঘটনাটিকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন।
মিশরের সমাজের বড় একটি অংশ রক্ষণশীল। সেখানে ইসলামী শরিয়াহর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কঠোর নৈতিক বিধিবিধান অনুসরণের প্রবণতা রয়েছে। দেশটির আদালত বিভিন্ন সময়ে পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইট বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে এসব ওয়েবসাইটে প্রবেশের সুযোগ ব্যাপকভাবে প্রচলিত রয়েছে।
পর্নহাব ইনসাইটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইট পরিদর্শনের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ ২০টি দেশের তালিকায় ছিল মিশর। ওই তালিকায় প্রথম স্থানে ছিল যুক্তরাষ্ট্র।


