logo

১৭০ যাত্রীর জীবন হুমকিতে ফেলা সেই কো-পাইলট সম্পর্কে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

সিএনএন
সিএনএন
রয়টার্স
রয়টার্স
 ১৭০ যাত্রীর জীবন হুমকিতে ফেলা সেই কো-পাইলট সম্পর্কে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
ওমানের নাগরিক হাম্মাম আল-হাম্মামি। ছবি: রেডিট

সংযুক্ত আরব আমিরাত ছেড়ে আসা ফ্লাইদুবাইয়ের যাত্রীবাহী বিমানটি ইসরায়েলে বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন ওমানি কো-পাইলট। তার নাম হামাম আল-হাম্মামি। তাকে উগ্রবাদী কোনো গোষ্ঠীর নির্দেশে বা চরমপন্থি মতাদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার সন্দেহ করা হলেও এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে ঘটনার নেপথ্যে কোনো মদদদাতা থাকলে তাদের ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামামের জন্ম সংযুক্ত আরব আমিরাতে। তার বাবা ওমানি এবং মা সিরীয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাম জীবনের বেশির ভাগ সময় ওমানের বাইরে বিশেষ করে সিরিয়ায় কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি চরমপন্থি মতাদর্শের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালে ওমান এয়ারে প্রশিক্ষণার্থী পাইলট হিসেবে কাজ করার সময় হামামের কাছে চরমপন্থি মতাদর্শের নথিপত্র পাওয়া যায়। এয়ারলাইনসের প্রশাসনিক কাজে যুক্ত রাখা হলেও তার বিমান চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দুবাইভিত্তিক এয়ারলাইন ‘ফ্লাইদুবাই’ তাকে নিয়োগ দেয় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যকার রুটে বিমান চালানোর সুযোগ দেয়।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি ইসরায়েলে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা ছিল হামামের।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই পাইলট ফ্লাইদুবাইয়ে মাত্র আট মাস কাজ করেছিলেন। হামাম আল-হাম্মামি নামের একটি লিংকডইন প্রোফাইল (যা বর্তমানে মুছে ফেলা হয়েছে) থেকে জানা গেছে, তিনি ওমান এয়ারে সাত বছর কাজ করেছিলেন এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই চাকরি ছাড়েন। এরপর তিনি ২০২৫ সালের জুনে রয়্যাল এয়ার মরক্কোতে যোগ দেন এবং ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখান থেকে পদত্যাগ করেন।

ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ঘটনার ৯ ঘণ্টার মধ্যে ওই প্রোফাইল থেকে দুটি পোস্ট করা হয়েছিল, যেগুলো ছিল সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত। প্রথম পোস্টে একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের ককপিট থেকে ধারণ করা বেশ কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ ছিল; সেখানে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি ইসরায়েলি এয়ারলাইন এল আলের একটি বিমানের ওপর জুম করে সেটি দেখান। ভিডিওটির শেষে আল-কায়েদার নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি এবং হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাউইয়ের ছবি দেখানো হয়। এই আল-বালাউই ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৯ জনকে হত্যা করেছিলেন।

আরেক পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি ছবি দেখা যায়; যেখানে মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমে অবস্থিত ইসলামের তিনটি পবিত্র স্থানকে তুলে ধরা হয়েছে। ছবির পটভূমিতে থাকা কবিতায় অপমান প্রত্যাখ্যান, মৃত্যুকে ভয় না পাওয়া এবং নিজের মর্যাদা রক্ষার কথা বলা হয়েছে। সিএনএনের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামামের এক্স অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে তাকে একজন ধর্মপ্রাণ ও নারীবিদ্বেষী ব্যক্তি মনে হয়েছে।

গত সপ্তাহে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে নাশকতার চেষ্টা চালান ওমানি পাইলট হামাম। ওই বিমানে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিল। নাশকতায় বাধা দিতে যাওয়া ভারতীয় পাইলট মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন তিনি। তখন বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। এক পর্যায়ে বোয়িংয়ের বিমানটি ১৫ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায় নেমে আসে। আহত হওয়া সত্ত্বেও, ভারতীয় পাইলট ককপিটের দরজা খুলে দেন, যার ফলে ক্রু ও যাত্রীরা হস্তক্ষেপ করার এবং হামলাকারীকে কাবু করার সুযোগ পান।