যন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভের ডাক দেব না, আদালতে দুই ‘ককরোচ’ নেতা

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আর কোনো আন্দোলন না করার প্রতিশ্রুতিতে সাত দিন পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বুধবার (২১ অক্টোবর) দিল্লির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারা এ প্রতিশ্রুতিতে কারাগার থেকে ছাড়া পান।
তবে মুক্তি পেলেও আবারও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় রয়েছে এই দুই নেতা। কারামুক্তির পর পরই তাদের সমন পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার তাদের হাজিরা দিতে হবে। ইতিমধ্যে আশুতোষ ও সৌরভের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলা অপরাধ দমন শাখায় হস্তান্তর করেছে পুলিশ। ফলে নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৮৮ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে সমন পাঠানো হয়েছে সিজেপির আরেক নেতা অজিঙ্কা শিণ্ডেকেও। জানা গেছে, দিল্লির কনট প্লেস ও পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় দুটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। দুটি অভিযোগই ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। আজ (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় রাজোরি গার্ডেনের দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে দুই সিজেপি নেতাকে।
গত ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানের কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়ার জন্য ডাক দিয়েছিল। কিন্তু ওইদিন কাউকে সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি। উল্টো দলটির প্রধান অভিজিৎ দীপকেসহ এ দুজনকে দিল্লির বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। এরপরের দিন তারা ছাড়া পান।
এদিন অভিজিৎ চলে যান তার বাড়িতে। তার দাদি মারা যাওয়ার পরিবারের পাশে থাকতে যেতে হয় তাকে। কিন্তু সৌরভ আর আশুতোষ গত ১৩ অক্টোবর যন্তরমন্তরে গিয়ে পতাকা উড়ান। এরপর তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশি রিমান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর প্রতিবাদে ১৫ অক্টোবর দিল্লির সেন্ট্রাল পার্কে পতাকা উড়াও কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু ওইদিনও তাকে কর্মসূচি সফল করা না দিয়ে আটক করা হয়। তিনি পরের দিন মুক্তি পেলেও সৌরভ আর আশুতোষকে আটকে রাখা হয়।
অবশেষ গতকাল বুধবার তারা ছাড়া পান। এর আগে দিল্লির হাইকোর্টে নেওয়া হলে দুজনকে আদালত প্রশ্ন করেন আন্দোলন নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কেন তারা যন্তরমন্তরে গিয়েছিলেন, সেখানে যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটত তাহলে তারা এ দায় নিতেন কি না। এরপর তারা প্রতিশ্রুতি দেন যন্তর মন্তরে আর কোনো আন্দোলনের ডাক দেবেন না।
