logo

‘কাপুরুষতার’ অভিযোগে কঙ্গোর ২৭ সেনাসদস্যের মৃত্যুদণ্ড

‘কাপুরুষতার’ অভিযোগে কঙ্গোর ২৭ সেনাসদস্যের মৃত্যুদণ্ড
কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে পিছু হটার অভিযোগে ২৭ সেনাসদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সামরিক আদালত। ছবি: রয়টার্স

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে পিছু হটার অভিযোগে ২৭ সেনাসদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সামরিক আদালত। আদালতের নথির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় সম্মুখসারির অবস্থান ছেড়ে পিছু হটেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করেন।

আনাদোলুর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উভিরায় সামরিক আদালতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২১তম সিম্বা ব্যাটালিয়নের অন্তত ১১২ সেনাসদস্যের বিচার শুরু হয়। আগস্টে পূর্ব কঙ্গোতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় নির্দেশ অমান্য ও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে তাদের বিচার করা হয়।

আদালত জানায়, শুক্রবার ৫৪ সেনাসদস্যকে নির্দেশ অমান্যের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও ১০ জনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় অন্তত ২১ সেনাসদস্যকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাস পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন নারীও রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, উভিরা শহরসংলগ্ন কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিরাপত্তায় এসব সেনাসদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছিল।

এর আগে গত মে মাসে একই ধরনের ঘটনায় কঙ্গোর একটি সামরিক আদালত ৫৮ সেনাসদস্যকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় সম্মুখসারি থেকে সরে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ‘নির্দেশ অমান্যের’ অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এদিকে, পূর্ব কঙ্গোর উভিরা অঞ্চলে এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।

পূর্ব কঙ্গোর দীর্ঘদিনের সংঘাতে এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে তারা প্রাদেশিক রাজধানী গোমা ও বুকাভুসহ পূর্বাঞ্চলের উল্লেখযোগ্য ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

কঙ্গো সরকার, জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা কয়েকটি দেশ এম২৩-কে প্রতিবেশী রুয়ান্ডার সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। তবে রুয়ান্ডা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।