ইন্টারনেট ব্যবহার শিশুদের মৌলিক অধিকার: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ওপর বিধিনিষেধ আরোপের বিপক্ষে রায় দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলছেন, ‘আমরা বলতে দ্বিধা করি না যে, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ মিলিয়ে প্রত্যেক ব্যক্তির ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকার একটি মৌলিক অধিকার।’
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শিশু অধিকারবিষয়ক সংস্থা জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন অ্যালায়েন্স ও অন্য এক আবেদনকারীর করা আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও কে ভি চন্দ্রনের বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন। অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো শিশুদের যৌন শোষণ ও নির্যাতনসংক্রান্ত উপকরণ (সিএসইএএম) সম্পর্কে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানোর আইনি বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর বয়সভিত্তিক সার্বিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব নাকচ করেছেন আদালত।
পর্যবেক্ষণে সুপ্রিম কোট বলেন, ‘আমরা বলতে দ্বিধা করি না যে, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ মিলিয়ে দেখলে ইন্টারনেট ব্যবহার করার অধিকার প্রত্যেক ব্যক্তির একটি মৌলিক অধিকার।’
আদালত আরও বলেন, ‘আমাদের শিশুরা তাদের বয়স নির্বিশেষে একই অধিকার ভোগ করে। এই অধিকার পুরোপুরি অস্বীকার করা ততটাই অযৌক্তিক, যতটা বলা যে নির্দিষ্ট বয়সের কম শিশুদের সুরক্ষার জন্য বিবেক বা নিজেদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই।’
বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও কে ভি চন্দ্রনের বেঞ্চ বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা ও তাদের স্বাধীনতা পরস্পরবিরোধী নয়। আমাদের সন্তানরা উভয়েরই অধিকারী।’
বয়সভিত্তিক সার্বিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে অস্বীকৃতি জানিয়ে আদালত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও কঠোর অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ, যৌন নিপীড়নমূলক উপকরণ অপসারণ এবং শিশুদের জন্য বিশেষ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বা চাইল্ড মোড চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।
আইন করে নিষিদ্ধ করলেই শিশুরা ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করে দেয় না, এ বিষয়টি উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট শিশুদের অনলাইন যৌন নির্যাতনমূলক উপকরণ (সিএসএএম) থেকে সুরক্ষায় একটি কঠোর কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় আন্তরিক উদ্যোগের অভাবের জন্য কর্তৃপক্ষ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যস্থতাকারীদেরও তিরস্কার করেছেন আদালত। সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বারবার শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত উপকরণ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন বিচারকেরা।
আদালত বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টির ওপর যথেষ্ট জোর দিতে চাই যে, ইন্টারনেটে সম্মতিবিহীন যৌন শোষণমূলক ও নিপীড়নমূলক উপকরণের কোনো স্থান থাকতে পারে না। বিশেষ করে এমন প্ল্যাটফর্মে, যেগুলো আমাদের সমাজের সবচেয়ে সহজে প্রভাবিত হওয়া ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর কাছে সহজলভ্য।’

