যুক্তরাজ্যের শরণার্থী কর্মসূচির প্রাথমিক তালিকায় বাংলাদেশ, মানতে হবে যেসব শর্ত

যুক্তরাজ্যের শরণার্থী স্পনসরশিপ কর্মসূচির প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ হয়েছে। এতে বাংলাদেশসহ ৭টি দেশ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে যারা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করবেন, তারা বিবেচিত হতে পারেন। তবে বাংলাদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকরা এ কর্মসূচির আওতায় পড়বেন না।
গত ২৯ অক্টোবর দেশটির এ-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রোববার (৮ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আগামীর সময়।
প্রাথমিক তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, মিসর, উগান্ডা ও কেনিয়ার নাম রয়েছে। ধাপে ধাপে চালু হতে যাওয়া এ উদ্যোগ যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান সরকারি শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচির পাশাপাশি চলবে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজের দেশের বাইরে থাকতে হবে। ২০২৬ সালের ১ অক্টোবরের আগে তাকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কোনো দেশে উপস্থিত থাকতে হবে এবং সেই তারিখের আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কাছে নিবন্ধিত হতে হবে। দেশভেদে নিবন্ধনের শর্ত কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে আরও নির্দেশনা প্রকাশ করবে মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো, দেশে বসে সাধারণ শিক্ষার্থী বা চাকরিপ্রার্থী হিসেবে এ পথে আবেদন করার সুযোগ নেই। অন্যদিকে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া কোনো রোহিঙ্গার নিবন্ধন থাকলেও সেটি যোগ্যতার একটি শর্ত মাত্র। তাকে শরণার্থী হিসেবে যাচাই হতে হবে, উপযুক্ত স্পনসর পেতে হবে এবং পরিচয়, নিরাপত্তা ও অন্যান্য যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর অনুমোদিত শরণার্থীরা প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর থাকার অনুমতি পাবেন। তারা কাজ ও পড়াশোনা করতে পারবেন। নির্দিষ্ট সরকারি ভাতার শর্ত পূরণ করলে সেই সহায়তাও নিতে পারবেন। স্পনসরদের আগেই বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সহায়তা দিতে হবে। যোগ্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে, তবে কাদের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে, তার বিস্তারিত পরে জানানো হবে। স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগের কথা নীতিমালায় থাকলেও তার শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশের জন্য এই ঘোষণার গুরুত্ব হলো, এখানে আশ্রয় নেওয়া যোগ্য শরণার্থীদের জন্য পুনর্বাসনের একটি অতিরিক্ত পথ খুলতে পারে। বাস্তবে সুযোগ কতজন পাবেন, তা নির্ভর করবে যোগ্য শরণার্থীদের শনাক্ত করা, স্পনসর পাওয়া এবং যাচাই শেষ করার ওপর। বাংলাদেশ থেকে কতজনকে নেওয়া হবে, প্রকাশিত নীতিমালায় তার কোনো সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, প্রথম পথে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠন নির্দিষ্ট একজন শরণার্থীকে স্পনসর করতে পারবে। দ্বিতীয় পথে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো শরণার্থীকে ভর্তির প্রস্তাব দিয়ে স্পনসর করতে পারবে। তৃতীয় পথে অংশগ্রহণকারী নিয়োগকর্তা চাকরির প্রস্তাব দিয়ে একজন শরণার্থীকে স্পনসর করতে পারবে।
হোম অফিসের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, কাজের পথটি ২০২৭ সালের বসন্তে চালু হবে। তিন ক্ষেত্রেই স্পনসরদের কাজ করতে হবে হোম অফিসের অনুমোদিত একটি প্রধান স্পনসর সংস্থার মাধ্যমে।

