logo

শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কায় ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

এএফপি
এএফপি
শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কায় ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। ছবি: এবিসি নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন রাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউসম।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসে এল নিনোর কারণে ক্যালিফোর্নিয়াসহ পশ্চিম উপকূলে শক্তিশালী ও ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টিকারী ঝড় আঘাত হানতে পারে। একই সঙ্গে স্বাভাবিকের তুলনায় জোয়ারের উচ্চতা বেড়ে উপকূলীয় এলাকায় বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

গভর্নর নিউসম বলেন, সমস্যা দেখা দেওয়ার পর অপেক্ষা না করে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া দরকার।

তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া, জরুরি সেবাকর্মীদের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা এবং দুর্যোগের সময় রাজ্য প্রস্তুত রয়েছে—এমন আস্থা পরিবারগুলোর মধ্যে তৈরি করা।

নিউসম আরও বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ বাড়িতে থাকা, নিজ সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি

সোমবারের জরুরি অবস্থা ঘোষণাটি মূলত প্রশাসনিক পদক্ষেপ। এর ফলে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থা দ্রুত সম্পদ ও সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি বন্যা মোকাবিলায় বালুর বস্তা, পানি নিষ্কাশনের পাম্পসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পাঠিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

প্রয়োজনে বন্যা মোকাবিলা, উদ্ধার অভিযান, প্রকৌশল সহায়তা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করার জন্য ক্যালিফোর্নিয়া ন্যাশনাল গার্ডকেও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এল নিনো কী?

এল নিনো হলো ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সংঘটিত একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়া চক্রের উষ্ণ পর্যায়। এই চক্রটি এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন (ENSO) নামে পরিচিত এবং সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর দেখা যায়।

এল নিনোর সময় পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত বাণিজ্যিক বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে সাধারণত জমে থাকা উষ্ণ পানি পূর্বদিকে সরে এসে সমুদ্রপৃষ্ঠে উঠে আসে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা কয়েক মাস ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে ওই অঞ্চলে ঝড় ও মেঘের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর প্রভাব বৈশ্বিক বায়ুমণ্ডলেও ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দিতে পারে, আবার অন্য কোথাও হতে পারে বেশি ঠান্ডা ও বৃষ্টিপাত।