যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পথে, শুরু হয়েছে ফল গণনা

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পথে। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একের পর এক ভোটকেন্দ্র বন্ধ হচ্ছে। ইতোমধ্যে পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে এখনো ভোটগ্রহণ চলছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি নিউজ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সবার আগে কেন্টাকি ও ইন্ডিয়ানার পূর্বাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়। এরপর জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, ভারমন্ট ও ভার্জিনিয়ায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। ফ্লোরিডা ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রও পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়েছে। তবে এসব অঙ্গরাজ্যের কিছু এলাকায় সময় অঞ্চলভেদে ভোটগ্রহণের সময় ভিন্ন।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ৪৩৫টি আসনের সবগুলো এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টির জন্য ভোট হচ্ছে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচিত হচ্ছেন।
নির্বাচনের মূল আকর্ষণ কংগ্রেসের দুই কক্ষ; প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে কারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারে, তা নিয়ে। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে রয়েছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই নির্বাচনকে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির প্রথম দুই বছরের ওপর এক ধরনের গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম, অভিবাসননীতি, ইরান যুদ্ধ এবং সরকারের বিভিন্ন নীতি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
প্রাথমিক এক্সিট পোলের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। সিবিএস নিউজের প্রাথমিক জরিপে তার প্রতি সমর্থনের হার ৩৮ শতাংশ পাওয়া গেছে। ভোটারদের একটি বড় অংশ কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পক্ষেও মত দিয়েছেন।
এদিকে জর্জিয়ার সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন অসফ রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক কলিন্সকে পরাজিত করেছেন বলে প্রাথমিক নির্বাচনী পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। এটি নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভোটগ্রহণ শেষে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা শুরু হয়েছে। তবে সব অঙ্গরাজ্যের ফল একসঙ্গে পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে ডাকযোগে পাঠানো ও অস্থায়ী ব্যালট গণনা এবং যাচাই-বাছাইয়ের কারণে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল আগামী দুই বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলবে। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি বাড়তে পারে।

