প্রাণঘাতী ইনজেকশন নয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফাঁসিই বহাল ভারতে

এনডিটিভি
প্রাণঘাতী ইনজেকশন নয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফাঁসিই বহাল ভারতে
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ফাঁসি দেওয়ার পদ্ধতিই বহাল রেখে রায় দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচলিত বিধির সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রেখে সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসিই বলবৎ থাকবে।

Advertisement

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) শীর্ষ আদালত প্রাণঘাতী ইনজেকশন বা অন্য কোনো কম যন্ত্রণাদায়ক উপায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের একটি জনস্বার্থ আবেদন খারিজ করে এই রায় দেন। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।

আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রচলিত এই আইনি প্রক্রিয়ায় বদল আনার মতো যথেষ্ট কোনো বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাগত ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আবেদনে দণ্ডিত ব্যক্তির যন্ত্রণা কমাতে ও মানসিক মর্যাদা রক্ষা করতে ফাঁসির বদলে প্রাণঘাতী ইনজেকশন, বিষাক্ত গ্যাস বা গুলির মতো বিকল্প পদ্ধতি চালু করতে জোর দাবি জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে আদালত এ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী তিনটি রায়কে বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর আরজিও পর্যাপ্ত ভিত্তির অভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আইনজীবী ঋষি মালহোত্রার দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলায় যুক্তি দেওয়া হয় যে, ফাঁসিতে ঝোলানোর পর চূড়ান্ত মৃত্যু নিশ্চিত হতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে, যা অত্যন্ত বেদনার। এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত ‘মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর অধিকার’-এর পরিপন্থি।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫৪(৫) ধারার অধীনে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার পক্ষেও যুক্তি দাঁড় করেন ওই আইনজীবী। তবে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার সর্বোচ্চ আদালতকে জানিয়েছে, কয়েদিদের ফাঁসি বা ইনজেকশনের মধ্য থেকে পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাস্তবে সম্ভব নয়।

আদালত চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণে জানান, বর্তমান রিট আবেদনটি খারিজ হলেও ভবিষ্যতে জোরালো বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রমাণের ভিত্তিতে কেন্দ্র চাইলে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে নতুন বিকল্প পদ্ধতি পর্যালোচনার স্বাধীন সুযোগ বজায় থাকবে।

প্রাণঘাতী ইনজেকশন নয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফাঁসিই বহাল ভারতে