তেলের বিপরীতে স্বর্ণের দামে পতন

তেলের বিপরীতে স্বর্ণের দামে পতন
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের। মূলত বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড (আয়) বৃদ্ধির জোড়া ধাক্কায় স্বর্ণের বাজার নিম্নমুখী হয়েছে।

Advertisement

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হারের বিষয়ে পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, সে সংক্রান্ত ইঙ্গিত পেতে বিনিয়োগকারীরা তাদের গত জুলাই মাসের নীতি-নির্ধারণী বৈঠকের কার্যবিবরণীর (মিনিটস) অপেক্ষায় রয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বাজারের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯১.১৪ ডলারে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত গোল্ড ফিউচারের দাম ০.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৪৬.৭০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কগুলোতে একযোগে দরপতন ঘটায় বিশ্বজুড়ে মূল্যবান ধাতুর বাজারে একটি মন্দা ভাব তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছর মেয়াদি বেঞ্চমার্ক ট্রেজারি বন্ডের রিটার্ন বা ইল্ড ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেহেতু স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট সুদ বা আয় আসে না, তাই বন্ডের আয় বাড়লে স্বর্ণের মতো সম্পদে বিনিয়োগের ‘সুযোগ ব্যয়’ অনেক বেড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ ছেড়ে বন্ডের প্রতি বেশি ঝুঁকছেন।

পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইরান ‘পুরোপুরি আক্রমণাত্মক’ সামরিক অবস্থানের ঘোষণা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও চড়তে শুরু করে, যা স্বর্ণের দরপতনে প্রভাব ফেলে।

এদিকে আর্থিক বাজারের বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ।

তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ও স্পষ্ট কোনো বার্তা মিলবে কি না, তা জানতেই বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা বুধবার প্রকাশিত হতে যাওয়া ফেডারেল রিজার্ভের জুলাই সভার বিস্তারিত কার্যবিবরণীর দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।

তেলের বিপরীতে স্বর্ণের দামে পতন