logo

এক রাতে ৫৯৬ ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিতের দাবি রাশিয়ার

এএফপি
এএফপি
এক রাতে ৫৯৬ ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিতের দাবি রাশিয়ার
একটি চালকবিহীন আকাশযান (ইউএভি) উড়ে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

পূর্ব ইউরোপের আকাশে এক ভয়াবহ ড্রোন যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এক রাতে রেকর্ডসংখ্যক ৫৯৬টি ড্রোন ভূপাতিত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে রাশিয়া। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর চালানো ব্যাপক ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

রাশিয়ার দাবি, হামলায় ব্যবহৃত অধিকাংশ মানববিহীন আকাশযান (ইউএভি) আকাশ প্রতিরক্ষা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে হামলার ধ্বংসাবশেষ ও ড্রোনের আঘাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী নভোরোসিস্কে চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কোন্দ্রাতিয়েভ।

এক রাতেই এত বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা যুদ্ধ শুরুর পর অন্যতম বড় ড্রোন হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।

পাল্টা হামলায় ইউক্রেনেও ব্যাপক ড্রোন

একই রাতে ইউক্রেনের আকাশেও রুশ বাহিনীর ব্যাপক ড্রোন হামলা হয়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া মোট ১৯৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে ১৬৫টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত অথবা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

তবে উভয় দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন বলে জানিয়েছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এক রাতের হামলায় উভয় পক্ষের বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা যুদ্ধের জন্য ড্রোন উৎপাদন ও মজুত বাড়ানোর বিষয়টি স্পষ্ট করছে।

সাম্প্রতিক এই ব্যাপক ড্রোন হামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করার লক্ষ্যে সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও তাঁর মার্কিন প্রতিপক্ষের বৈঠক কোনো বড় অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়।

এরপর কূটনৈতিক অগ্রগতির পরিবর্তে যুদ্ধের ময়দানে হামলা আরও তীব্র হয়েছে। উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বাড়াতে গভীর অঞ্চলের অবকাঠামো ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি ও সক্ষমতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নতুন ও আরও তীব্র পর্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।