logo

নেপালে হড়কা বানে ভেসে গেল কয়েকটি গ্রাম, বহু হতাহত

এনডিটিভিকাঠমান্ডু পোস্ট
নেপালে হড়কা বানে ভেসে গেল কয়েকটি গ্রাম, বহু হতাহত
নেপালে হড়কা বানে ভেসে গেল কয়েকটি গ্রাম। ছবি: বিবিসি

নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত ভোতে কোশি নদীতে হঠাৎ সৃষ্ট হড়কা বানে একাধিক গ্রাম ভেসে গেছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্ত আটজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর অন্তত ৩৩ সদস্যসহ বহু মানুষ এখন নিখোঁজ।

Advertisement

বুধবার (২৬ আগস্ট) গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিব্বতের পার্বত্য অঞ্চল থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিঙ জেলার নদী তীরবর্তী একাধিক গ্রাম ও বাজার। প্লাবিত এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

দেশটির পুলিশের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র উপ-মহাপরিদর্শক অবিনারায়ণ কাফলে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে এ পর্যন্ত আটটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাসুয়া জেলার সীমান্ত চৌকি ও পুলিশ পোস্টে দায়িত্বরত নেপাল পুলিশের ২৬ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) সাতজন সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এছাড়া শ্যাপ্রুবেসি এবং তিমুরে বাজার এলাকার জনবসতি ও পরিকাঠামো বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

বন্যায় দেশটির বিদ্যুৎ পরিকাঠামোরও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (এনইএ) জানিয়েছে, রাসুয়াগড়ি, চিলিমে, ত্রিশুলি ৩এ, ত্রিশুলি ৩বি সাবস্টেশন, ত্রিশুলি ও দেবীঘাট জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ মোট ছয়টি প্রধান প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যাহত হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জরুরি বৈঠক ডেকে উদ্ধারকাজ জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনাবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে।

বন্যার বিপজ্জনক পানির তোড় নিচে ত্রিশুলি নদীর দিকে প্রবাহিত হওয়ায় নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আকুল আহ্বান জানিয়ে দেশটির সরকার।

নেপালে হড়কা বানে ভেসে গেল কয়েকটি গ্রাম, বহু হতাহত