নরেন্দ্র মোদিকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিল ককরোচ জনতা পার্টি

রাজধানী দিল্লিতে ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির আগে অভিজিৎ দীপককে আটকের ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘স্বৈরাচারী’ শাসক বলে অভিহিত করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। চলমান আন্দোলনে সরকারের দমনপীড়নের জেরে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি নেতা অজিঙ্কা শিন্ডে এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচির অনুমতি না দিয়ে অভিজিৎ দীপককে আটকের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন অজিঙ্কা শিন্ডে। তিনি বলেন, ‘অভিজিৎ দীপক একজন মানুষ ছিলেন, যিনি হাতে তেরঙ্গা পতাকা নিয়ে হাঁটছিলেন। আমরা কেমন একটি দেশে পরিণত হয়েছি, যেখানে আমাদের জাতীয় পতাকা ওড়ানোর অনুমতিও দেওয়া হচ্ছে না? নরেন্দ্র মোদি বিশ্বকে প্রমাণ করে দিচ্ছেন যে, তিনি একজন স্বৈরাচারী।’
এদিন বিকেলে ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচি পালনের উদ্দেশে নিজের বাড়ি থেকে বের হলে অভিজিৎ দীপকেকে আটক করে পুলিশ। ওই কর্মসূচির নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই তার বাড়িতে হাজির হয় দিল্লি পুলিশ। প্রাথমিকভাবে কর্মসূচিতে তাকে যোগ না দিতে নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু নোটিশ উপেক্ষা করে বাড়ি থেকে বের হলে তাকে আটক করা হয়।
এর কিছুক্ষণ পর ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচি পালনের সময় দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকার কাছ থেকে পুলিশের হাতে আটক হন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) নেত্রী নেহা বোরাও। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর কনট প্লেসে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। এ সময় সিজেপি ও এআইএসএর আরও বেশ কয়েকজন নেতা আটক হন।
দিল্লি পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণ থাকলে এবং সেন্ট্রাল পার্কে প্রবেশ না করলে তাদের আটক করা হবে না। সিজেপি তাদের তেরঙ্গা মিছিলের পরিকল্পনা করেছিল সেন্ট্রাল পার্কে। তবে সেখানে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের পক্ষ থেকে ওই আশ্বাস দেওয়া হয়।
নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে গত কয়েকদিন ধরেই ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল নয়াদিল্লি। তরুণদের এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে রাজপথে নেমেছেন বিরোধীদল কংগ্রেসহ অন্যন্যরা। আন্দোলনের তেজ শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইতোমধ্যে মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আন্দোলন।
কিন্তু ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দাবি, প্রতিবেশী বাংলাদেশ, নেপালের আদলে ভারতের সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র করছে ডিপ স্টেট। আর সেই ষড়যন্ত্রের দাবার গুটি হিসেবে মাঠে নামানো হয়েছে একদল তরুণকে, যরা বর্তমানে আন্দোলনের মাধ্যমে গোটা ভারতকে অস্থিতিশীল করতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারলেই বিজেপি সরকারকে উৎখাত করা সহজ হবে বলে দাবি করছেন বিজেপির কেউ কেউ।
Abhijeet Dipke was just one man walking with his Tiranga in hand. What kind of a country have we become that we are not even being allowed to unfurl our national flag? Narendra Modi is proving to the world that he is a Dictator.
— Ajinkya Shinde (@AjinkyaCJP) October 16, 2026
