logo

ইনজেকশনেও বেঁচে গেলেন মৃত্যুদণ্ডের আসামি, পদ ছাড়লেন কারাপ্রধান

এপি
এপি
ইনজেকশনেও বেঁচে গেলেন মৃত্যুদণ্ডের আসামি, পদ ছাড়লেন কারাপ্রধান
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা গেইল পাইক (ডানে) ও টেনেসি কারা প্রধান ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা (বামে)। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

প্রাণঘাতী ইনজেকশনের দুটি ডোজ প্রয়োগের পরও ক্রিস্টা গেইল পাইক মারা যাননি। প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার ৫০ বছর বয়সী এই নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা ছিল। কিন্তু ইনজেকশন প্রয়োগের পরও তাঁর হৃদস্পন্দন বন্ধ না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগ ক্রিস্টা গেইল পাইক নামের এক নারী বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে নজিরবিহীন ব্যর্থতার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কারা কর্তৃপক্ষ।

ককপিট বা কার্যকর কক্ষে ঘটে যাওয়া এই চরম ব্যর্থতার দায় নিয়ে অঙ্গরাজ্যের কারা ব্যবস্থার প্রধান (কমিশনার অব কারেকশন) ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা পদত্যাগ করেছেন। প্রাণঘাতী ইনজেকশনের দুটি ডোজ প্রয়োগের পরও ওই নারী কয়েদির মৃতুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) টেনেসির গভর্নর বিল লি আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এক যৌথ বিবৃতিতে বিদায়ী কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা জানান, ঠিক কী কারণে গত বুধবার ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুনির্দিষ্ট প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, তা অনুসন্ধানে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হতে যাচ্ছে। তদন্ত চলাকালীন তার পদে থাকা সমীচীন নয় বিধায় পদত্যাগ করাই রাজ্যের জন্য ‘সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত’ বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে শুক্রবার স্থানীয় আদালতে দাখিল করা এক চাঞ্চল্যকর নথিতে পাইকের আইনজীবীরা জানান, ইনজেকশন প্রয়োগের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর পাইককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের আইসিইউতে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল। সেখানে তিনি পুরোপুরি অচেতন অবস্থায় ছিলেন এবং চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালান।

এমনকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যবহৃত বিষাক্ত ইনজেকশনের দুটি ডোজ তার শরীর থেকে বের করতে বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরা।

এই বিস্ময়কর ঘটনার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড প্রথার পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা উভয় পক্ষই ঘটনার সুষ্ঠু জবাবদিহিতা এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নিরপেক্ষ তদন্ত ও পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর বিল লি।

পাইকের আইনজীবীরা আরও জানিয়েছেন, মূলত আইভি (ইন্ট্রাভেনাস) লাইনের চরম ত্রুটি বা অনিয়মের কারণেই এই বিপত্তি ঘটে। ইনজেকশনের বিষাক্ত ওষুধ ‘পেন্টোবার্বিটাল’ স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহে না গিয়ে ভুলভাবে টিস্যু ও শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

আদালতে পেশ করা আবেদনে তারা লেখেন, ‘মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দলের কোনো সদস্যই বুঝতে পারেননি যে আইভি লাইনগুলো সঠিকভাবে বসানো হয়নি অথবা তার শিরা ফেটে গিয়ে পুরো পেন্টোবার্বিটাল শরীরে ছড়িয়ে চরম বিষক্রিয়া ঘটাচ্ছিল।’

বার্তা সংস্থার এপির তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১৮ বছর বয়সে ঈর্ষার বশে নিজ সহপাঠী কলিন স্লেমারকে নৃশংসভাবে নির্যাতন ও হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হন ক্রিস্টা পাইক। আদালত দোষী সাব্যস্ত করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মৃত্যুদণ্ডের রায় পাওয়া সর্বকনিষ্ঠ নারীদের একজন হয়ে কারাবাস করছিলেন।