ইরান-আমেরিকা আলোচনার মধ্যেই হরমুজে জাহাজে হামলা

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যখন সংকট নিরসনে পরোক্ষ কূটনীতি চলছে, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে হামলার শিকার হয়েছে একটি বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজ।
অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের (ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন) সুনির্দিষ্ট আঘাতে জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। বর্তমানে আক্রান্ত জাহাজটি পারস্য উপসাগরের ওই জলসীমায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় ভাসছে। এই ঘটনায় অন্তত দুজন হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নজরদারি সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জাহাজটির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ইউকেএমটিও জানায়, দুর্ঘটনার পর জাহাজটির বেঁচে যাওয়া সব নাবিক ও কর্মীকে দ্রুত ও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে হামলায় দুজন প্রাণ হারিয়েছেন বা আহত হয়েছেন।
ওই জলসীমায় এখনো পর্যন্ত কোনো তেল বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার পরিবেশগত বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে গমনাগমনকারী সকল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মর্মান্তিক সামুদ্রিক হামলার ঠিক মুখোমুখি সময়েই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের জলসায় কাতারের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় বসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত ওই গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিদল মার্কিন পক্ষের কাছে তেহরানের অবস্থান ও কঠোর শর্তাবলি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানি ভূখণ্ডে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত হওয়ার পরপরই বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের মূল ধমনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান।
পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও, তা লঙ্ঘন করে পুনরায় উপসাগরীয় দেশটিতে বিমান হামলা চালানো হয়। এর পর থেকেই আন্তর্জাতিক জলসীমায় ধারাবাহিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
