logo

ফ্লাইটে গালাগাল করায় টেপ দিয়ে বাঁধা হলো যাত্রীকে

এনডিটিভি
এনডিটিভি
ফ্লাইটে গালাগাল করায় টেপ দিয়ে বাঁধা হলো যাত্রীকে
ফ্লাইটে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় এক যাত্রীকে টেপ দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। ছবি: এবিসি নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানে বর্ণবাদী ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের পাশাপাশি অন্য যাত্রীদের সঙ্গে শারীরিকভাবে বিবাদে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে ৬৭ বছর বয়সী এক যাত্রীর বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত তাকে সিটের সঙ্গে ডাকটেপ দিয়ে আটকে রাখেন বিমানের কয়েকজন যাত্রী।

ঘটনাটি ঘটে গত ৩ সেপ্টেম্বর টেক্সাস থেকে নিউ জার্সির উদ্দেশে যাত্রা করা আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত যাত্রীর নাম আর্থার লেইন লান্ডিন। তিনি অ্যারিজোনার বাসিন্দা।

মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই ও আমেরিকান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, ফ্লাইটটি ছিল আমেরিকান এয়ারলাইনসের এএ৬১৮। বিমানটি ডালাস থেকে নিউ জার্সির নিউয়ার্কের দিকে যাচ্ছিল।

ফ্লাইটের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পথ পাড়ি দেওয়ার পর বিমানের ভেতরে গোলযোগ শুরু হয়। সাবেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও ওই ফ্লাইটের যাত্রী হুয়ান মেহিয়া এবিসি নিউজকে জানান, তিনি বিমানের পেছনের দিকে গোলমালের শব্দ শুনতে পান।

মেহিয়ার ভাষ্য, লান্ডিন আমেরিকান এয়ারলাইনসের কর্মী ও অন্য যাত্রীদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য করতে থাকেন। তিনি বর্ণবাদী গালাগাল ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করছিলেন। এতে বিশেষ করে তার পেছনের সারিতে বসা নারী যাত্রীরা অস্বস্তিতে পড়েন।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে লান্ডিন শারীরিকভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। তখন মেহিয়া ও তার বন্ধু রিচার্ড ও’লেলনিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসেন। ও’লেলনিক নিউ জার্সির একটি অস্ত্রের দোকানের মালিক এবং মেহিয়া সেখানে তার কর্মী হিসেবে কাজ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ও’লেলনিক বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরে মেহিয়া দ্রুত ওই যাত্রীর পাশে গিয়ে বসেন এবং তাকে আটকে রাখতে বিমানের কর্মীদের সহায়তা করেন।

শেষ পর্যন্ত বিমানের কর্মী ও কয়েকজন যাত্রী মিলে লান্ডিনকে তার সিটের সঙ্গে ডাকটেপ দিয়ে আটকে দেন। তার দুই হাত জিপ টাই দিয়ে বাঁধা হয়।

মেরিল্যান্ড পরিবহন কর্তৃপক্ষের পুলিশ জানিয়েছে, বিমানটি বাল্টিমোরে অবতরণের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিমানে ওঠেন এবং লান্ডিনকে হেফাজতে নেন।

মেহিয়া ও ও’লেলনিক জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিমানে ওঠা পর্যন্ত তারা লান্ডিনের কাছেই ছিলেন।

ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে বিমানের ভেতরে ঠিক কী কারণে ওই যাত্রী এমন আচরণ করেছিলেন, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।