logo

হরমুজ প্রণালি নিয়ে আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত করল ওমান

টিআরটি ওয়ার্ল্ড
টিআরটি ওয়ার্ল্ড
হরমুজ প্রণালি নিয়ে আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত করল ওমান
ওমানের সালালাহ শহরে বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। ছবি: এপি

ওমানের সালালাহ শহরে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনুষ্ঠেয় উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। তবে গঠনমূলক আলোচনার উপযোগী পরিবেশ তৈরির জন্য এটি পরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার ওমানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওমান নিউজ এজেন্সি জানায়, সোমবার সালালাহতে অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক বৈঠকটি পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতায় অবদান রাখে—এমন সংলাপ এগিয়ে নিতে মাসকাট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পারস্য উপসাগরবিষয়ক দপ্তরের মহাপরিচালককে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং তেহরান ও মাসকাটের যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে ইরান জানিয়েছিল, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলো মাসকাটের আয়োজনে অনুষ্ঠেয় এই আলোচনায় অংশ নেবে। তবে কোনো আঞ্চলিক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেনি। বাহরাইন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা বৈঠকে অংশ নেবে না।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা ও নৌ চলাচলে বাধা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ আরোপ এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধের ঘটনা ঘটে।

জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা হলেও প্রণালিটি দিয়ে নৌযান চলাচলসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিরোধের কারণে তা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।

সংঘাত শুরুর ছয় মাসেরও বেশি সময় পরও হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।

যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল ছিল। বর্তমানে ইরান এই জলপথ দিয়ে চলাচলের জন্য অনুমতিপত্র চাইছে এবং বিভিন্ন সেবার জন্য ফি আরোপের চেষ্টা করছে। এসব শর্ত না মানা জাহাজগুলো নিয়মিত হামলার মুখে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জ করতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীও বিভিন্ন সময়ে ইরানের উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালিয়েছে।